নোয়াখালীতে প্রায় ২১ লাখ লোক পানি বন্ধী,৮ জনের মৃত্যু নিউজ৭১অনলাইন নিউজ৭১অনলাইন প্রকাশিত: ৯:৩৬ অপরাহ্ণ , আগস্ট ২৮, ২০২৪ ইফতেখাইরুল আলম,নিজস্ব প্রতিবেদক: এক টানা প্রবল বর্ষন ও উজানের পানিতে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। ঠাই নেই আশ্রয় কেন্দ্রে, এখনো প্রায় ৮টি উপজেলার ৮৭টি ইউনিয়নের ২১ লাখ ২৫ হাজার ৫শত মানুষ পানি বন্ধি রয়েছে। এর মধ্যে ১৩০৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২লাখ ৬৪হাজার ৭৪৩জন মানুষ আশ্রিত আছে। নতুন করে অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র মুখোমুখি হচ্ছেন। এ সময় বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে কথা বলে জানা গেছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে নুতন করে মানুষ উঠার জায়গা নেই। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে,পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাতের বৃষ্টিতে জেলা শহর মাইজদীসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।অপরদিকে, জেলার দুর্গম অনেক এলাকায় ঠিকমতো ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না বলে জানান বাসিন্দারা।ত্রাণ পেতে হাহাকার করছে বন্যার্তরা।স্থানীয়রা জানায়,গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার সেনবাগ, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলার বন্যা কার্যত অপরিবর্তিত রয়েছে।আর জেলা শহর মাইজদী বাজারসহ সদর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক বলেন, গতকাল সকাল নয়টা থেকে আজ সকাল নয়টা পর্যন্ত ৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গপসাগরে নতুন করে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে।অপরদিকে,বেগমগঞ্জ উপজেলায় গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়ে বেশি কষ্টে আছে। কিন্ত চলাচলের পথ দুর্গম হওয়ায় আমরা ত্রাণ পাচ্ছিনা। প্রশাসনের সঙ্গে ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের সমন্বয় না থাকায় এমন পরিস্থিতি হয়েছে। কবিরহাটের কালামুন্সি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে ছোট একটি কক্ষে ৬টি পরিবার গাদাগাদি করে থাকেছে। এর মধ্যে অনেকে নতুন করে আসছে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার জন্য। কিন্তু থাকার জায়গা নেই। কোম্পানীগঞ্জে রানা বলেন, তার বাবা হার্টের রোগী। বসতঘরে পানি উঠে যাওয়ায় সেখানে থাকা সম্ভব হচ্ছেনা। বসুরহাট বাজারে বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য রিকশা নিয়ে ঘুরছি। এ পনিস্থিতি বাসা ভাড়া পাওয়াও কঠিন।এদিকে, এই পর্যন্ত জেলায় বন্যায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি ১২৪টি ও বেসরাকারি ১৬টি মেডিকেল টিম মাঠে চালু রয়েছে। জেলা প্রশাসন দেওয়ান মাহবুবুর রহমান জানায়, জেলায় পানিবন্দি মানুষের মধ্যে সরকারিভাবে নগদ ৪৫ লাখ টাকা, ৮৮২ টন চাল, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫ লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও ৫ লাখ টাকার পশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন পাশে থাকবেন। শেয়ার নোয়াখালীবিষয়: