সন্তানের পরিবারই শিক্ষার প্রথম বিদ্যালয় – অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা নিউজ৭১অনলাইন নিউজ৭১অনলাইন প্রকাশিত: ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ৩, ২০২২ শিক্ষাদানের দায়িত্ব কার? ============= ইতিহাস বলে পরিবার শিক্ষার প্রথম বিদ্যালয়। মা-বাবা তার প্রথম শিক্ষক। শিক্ষার শিকড় পরিবারেই। পরে শিশু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নতুন শিক্ষাগুরুর তত্ত্বাবধানে শিক্ষার ডালপালা মেলে, বিকাশ লাভ করে মাত্র। পরিবার যদি না চায়, তার দায়িত্বের কথা ভুলে যায়, শুধু শিক্ষকের উপর নির্ভর করেন বা শিক্ষার বিপরীত ধর্মী কোন কাজ বা আচরণ করতে থাকেন ; সেখানে শিক্ষাগুরু প্রকৃত শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হতে বাধ্য। একটি উদাহরণ দিয়ে পরিবারের শিক্ষায় সহযোগিতার বিষয়টি পরিষ্কার করা যায়। যেমন ধরুন – শিক্ষক শিক্ষার্থী কে উপদেশ দিলেন,”সদা সত্য কথা বলবে, নারী-পুরুষ সমান, কোন সহিংসতায় জড়াবে না, বড়দের সাথে বেয়াদবি করবে না ইত্যাদি ইত্যাদি ।” কিন্তু শিক্ষার্থী দেখলো তার পরিবারে তার সামনে সবাই মিথ্যা কথা বলছে, বাবা বাসায় থাকে তার সন্তানকে দিয়ে বাড়ির বাইরের খবর পাঠালেন, “গিয়ে বলো বাবা বাড়ি নাই।” সে আরো দেখল তার পরিবারে ” “মা” বাবার হাতে, বোন দুলাভাইয়ের হাতে, তার ভাবি/বৌদি ভাইয়ের হাতে নানান কলাকৌশলে নানানরকম নির্যাতনের চিত্র। দেখল নিজের স্বার্থ আদায় কি কি কলা কৌশল অবলম্বন করতে হয়।” এই ক্ষেত্রে শিক্ষাগুরু শিক্ষার্থীকে উপদেশ দিয়ে বা শাসন করে ( যদিও শাসন তথাকথিত আধুনিক সমাজ নিষিদ্ধ করেছেন) সঠিক রাস্তা আনা সম্ভব? সে দেখছে তার প্রতিবেশীর বকাটে ভাইটা লেখাপড়া না করেও আজ সমাজে অর্থবিত্তে প্রতিষ্ঠিত । তাকে সভায় সমীহ করে চলে। পরিবারেও তার সম্মান অনেক। কাজেই আজকের শিশুকে পরিবার, সমাজ যে বাস্তব ও ব্যবহারিক শিক্ষাটা দিচ্ছে ; তার বাস্তব গুরুত্বকে অস্বীকার করতে পারি ? শিক্ষাগুরু সেখানে বাধা দিলে তাঁকে সে তো প্রতিপক্ষ মনে করবেই। উপদেশ দিলেন মিথ্যাবাদী মনে করবে। শিক্ষকের সাথে অসদাচরণ করে সে তার ইচ্ছা পূরণ করতে চাইবে । সামান্য সংশোধনমূলক শাস্তি দিলে বা তিরস্কার করলেন সমাজ ও আইন শিক্ষকের বিপক্ষে চলে যাবে। এ-ই ক্ষেত্রে শিক্ষককে উল্টো উপদেশ দেওয়ার হাজার হাজার পন্ডিত ব্যক্তিবর্গ আছেন। কারণ আমরা “সন্তান মানুষ করা দায়িত্বটি শুধু শিক্ষকের কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছি”। এ-ই ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ, প্রশাসন, রাষ্ট্র, আইন- উপদেষ্টার ভূমিকা পালন করছে। আর শিক্ষকরা হলেন “ঢাল তলোয়ার ছাড়া নিধিরাম সর্দার। ”কাজেই বলতে চাই, সন্তান মানুষ করতে পারিবারিক যত্ন ও শিক্ষা খুব দরকার। সন্তানকে প্রতিষ্ঠান পাঠিয়ে দিয়ে পরিবারকে উদাসীন থাকলে চলবে না। সমাজ ও সমাজপতিগণ “অন্যের শিশু আমার কী দায়িত্ব” ; এ-ই কথা বলে পিছয়ে গেলে চলবে না। কারণ অন্যের ঘরে আগুন লাগলে আপনার ঘরও নিরাপদ নয়। প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতারা বিবৃতি আর উপদেশ দিয়ে তাদের দায়িত্ব কে শেষ করতে পারেন না। আজকের সন্তান মানুষ না হলে পরবর্তীতে দেশ ও জাতি বর্বর হিসেবে পরিচিত হবে। আর শিক্ষকরাও সমস্যা দেখে নিজের দায়িত্বের কথা অস্বীকার করতে পারেন না। মানুষ গড়ার দায়িত্ব যখন নিয়েছেন ঝুঁকি তো সেখানে থাকবেই। “নন্দলালের দেশপ্রেম” নিয়ে শিক্ষকতা করা যাবে না। বর্তমান শিক্ষার সংকট দূর করতে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, প্রশাসন ও শিক্ষক সকলকে এক যুগে কাজ করতে হবে। কেউ কারো উপর এককভাবে দোষ চাপিয়ে দেশের শিক্ষাকে ধ্বংস করতে পারি না। বর্তমানে শিক্ষা দানের সংকটে বিষয়টি নিয়ে আমরা যে যত তাড়াতাড়িভাবো ততই মঙ্গল।অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম মোস্তফা নেত্রকোণা। ২.৯.২০২২ শেয়ার শিক্ষাঙ্গনবিষয়: