নোয়াখালীতে ভূমি অধিগ্রহণের কর্তাবাবুদের বিরুদ্ধে ১৯ লাখ টাকা ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১:৪০ পূর্বাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেনী নোয়াখালী জাতীয় মহাসড়কের বেগমগঞ্জ থেকে সোনাপুর পর্যন্ত ৪-লেনে উন্নতীকরন প্রকল্পের জন্য জন- প্রয়োজন ও জনস্বার্থ মূলক উদ্দেশ্যে প্রয়োজন মতে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন (২০১৭ সনের ২১ নম্বার আইন) এর ৪ ধারা অধীনে সংশ্লিষ্ট সকলকে  বণিত সম্পত্তি সরকার কতৃক অধিগ্রহণ মর্মে নোটিশ জারি করা হয়েছে।

অধিগ্রহণ কৃত সম্পত্তিতে যে কোন স্বার্থবান  ব্যক্তি নোটিশ জারির পরবর্তী (১৫) দিনের মধ্যে, প্রস্তাবিত সম্পত্তির অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবরই আপত্তি দায়ের করিতে পারবেন এবং উক্ত নোটিশে বলা হয় যে,গত ২৫/৮/২০২০ইং তারিখে তফসিল বণিত সম্পত্তির যৌথ তদন্ত শুরু হবে।যৌথ তদন্তকালে উক্ত সম্পত্তির মালিক বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট উপস্থিত থাকতে হবে।

তারই ধারাবাহিকতায়, গত ১৬/৮/২০২০ ইং তারিখে জারি কৃত ৮৫৮(২৩) ধারা ৪ এর(১) নং উপ-ধারায় এল.এ কেস নম্বর:১/২০১৯-২০।প্রায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে তফসিল ভূমি ৯৮ নং মাইজদী মৌজার সাবেক ১৬১১ দাগের এস.এ  ৭৪০, ২৫৮০, ১২৩২, ১৩৩২, ২৯৩০, ৫৪০৯, ৫৪১০, ৫৮১৪, ৫৯৮৭, ৬০৭৯, ৫৪৬৪, ৫৪৬৫ খতিয়ানে রেকর্ডীয় শ্রেনী নাল মোট ১ শতাংশ ৭৫ পয়েন্ট ভূমি অধিগ্রহণের নোটিশ করা হয়েছে।

উক্ত নোটিশে উল্লেখিত এস.এ ৭৪০ নং খতিয়ানের ১৬১১ দাগের রেকর্ডীয় প্রজা চৌধুরী মিয়ার ওয়ারিশ হিসেবে আমি মোঃ ইফতেখাইরুল আলম গং পিতা মৃত.শাহ আলম সাং মাইজদী মজীদ হাজী বাড়ি।আপত্তি কারী হিসেবে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বরাবরই একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে,ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো.শামীম আপত্তি কারীকে লিখিত আকারে মালিকানার বিবরণ দেওয়ার জন্য বলেন।

আপত্তি কারীর লিখিত বিবরণে জানা গেছে,  এস.এ ৭৪০ খতিয়ানের সাবেক ১৫৯৮ এবং ১৬১১ সহ দুই দাগে ৭ একর ৪৫ ডিং জমির মালিক চৌধুরী মিয়া পিতা মৃত আবদুল মজীদ।তিনি বিগত ১১/২/১৯৮৯ইং এবং তার ছেলে এনএসআই শাহ আলম, বিগত ৬/১২/১৯৯১ইং সনে মৃত্যুবরন করেন।

উক্ত ভূমির জের ওয়ারিশগন ঐ সময়ে  নাবালক থাকা সত্বে অধিগ্রহণ কৃত জমি তাদের দখলে ছিল না।

বিগত ১৩/২/৫৪ ইং তারিখে ১১১৬ দলিল মূলে শ্রী চন্দ্র ভূষণ সুর থেকে খরিদ সূত্রে সাবেক ১৬১১ দাগের এস.এ ৭৪০ খতিয়ানের মালিক চৌধুরী মিয়া।জমি ক্রয় করার পরে চৌধুরী মিয়ার ইন্ডিয়াতে চাকুরী করার সুবাদে ৬০/৬২ সালে অনুপস্থিত থাকায় অপরাপর ভাই সহ কতেক ভুয়া নাম এস.এ ৭৪০ খতিয়ান ভুক্ত হয়।কিন্তু এস.এ খতিয়ানে অধিগ্রহণ কৃত এওয়ার্ডী আবুল খায়ের বা তার পিতা সুরুজ মিয়ার কোন নাম পাওয়া যায়নি।শুধু মাত্র দখল সূত্রে মালিক আবুল খায়ের ও তার পিতা সুরুজ মিয়া।

ইন্ডিয়াতে অসুস্থ হয়ে এস.এ ৭৪০ খতিয়ানের রেকর্ডীয় প্রজা চৌধুরী মিয়ার বিগত ১৯৮৭ ইং সনে দেশের বাড়িতে পিরে কিছু দিন পরে গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে মারা যায়।

এরপর দুই বছর পর ছেলে শাহ আলম ও চাকুরীরত অবস্থায় মরন ব্যধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।আবুল খায়েরের ও তার পিতা সুরুজ মিয়াকে দখল কৃত দোকান পাট থেকে উচ্ছেদ করার জন্য তার সহযোগী লাঠিয়াল লুৎফুর রহমান সহ তার অন্যান্য ভ্রাতারা বাদী হয়ে সুরুজ মিয়ার বিরুদ্ধে ১৯৮০/৮১/৮২ ইং আদালতে ৩টি মামলা দায়ের করেন।উক্ত মামলায় ও বাদী পক্ষের কোন সঠিক মালিকানা না থাকায় মামলা গুলো খারিজ হয়ে যায়।পরবর্তীতে মামলার বাদী লুৎফুর রহমান গং আবুল খায়ের এর পিতা সুরুজ মিয়া মারা যাওয়ার পর মামলার বাদী বিবাদী সোল হয়ে যায়। সেই সোল নামা সূত্রে আবুল খায়ের আবার পূনরায় আদালতে আপিল করলে সেই আপিলে সঠিক কোন মালিকানা না পেয়ে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়।লুৎফুর রহমান বাদী হয়ে আদালতে যে ৩টি মামলা দায়ের করেন তাতে কোন এস.এ ৭৪০ খতিয়ানের রেকর্ড প্রজা চৌধুরী মিয়া বা তার ছেলে শাহ আলমকে বিবাদী করা হয়নি।

বিগত ২০২০ সাল থেকে আবুল খায়ের বা তার পিতা সুরুজ মিয়ার নামে কোন ভূমি অধিগ্রহণের কর্মকর্তাকে এস.এ ৭৪০ খতিয়ানের কোন মালিকানা দলিল পত্র দেখাতে পারেনি। 

পূর্বে যারা আবুল খায়েরকে এই সব দুই নম্বর ভূয়া কাগজপত্র সৃজন করে দিয়েছে তারাই আজ আবার সংয়ক্রীয় হয়ে প্রতিটি ধাপে ধাপে আবুল খায়েরের পক্ষে ভূমি সহকারী কমিশনার এসিল্যান্ড কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দ মোটা মাপের ঘুষ নিয়ে তার পক্ষে রিপোর্ট দেন এবং ঐ রিপোর্ট অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ পর্যন্ত সেন্ট অব কমান্ড কাজে লাগিয়ে চুক্তি ভিত্তিক ১৯ লাখ টাকা ২/৩ ভাগে ভাগ করে নেয়।

অপরদিকে বিগত ১৯৫৪ সালের দলিল এবং ৬০ সালের এস.এ ৭৪০ খতিয়ানের রেকর্ডীয় প্রজা চৌধুরী মিয়া সঠিক ও প্রকৃত জমির মালিক থাকা সত্বেও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তারা কোন গুরুত্ব দেয়নি।

অপরদিকে আবুল খায়েরের ভূয়া কাগজপত্র ও টাকার পরিমাণ বেশি পেয়ে নাম মাত্র দখল সূত্রে ভূয়া মালিক সেজে অধিগ্রহণের অসাধু কর্মকর্তা আহসান হাফিজ ও কানুনগো রফিকুল ইসলাম সহ কেরানি হুমায়ুন কবির এবং সেরেস্তা সহকারী আব্দুর রহিম এর চুক্তি অনুযায়ী ১৯ লাখ টাকার ৫০% ঘুষ বানিজ্য করে জৈনিক আবুল খায়ের কে সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে চেক হস্তান্তর করেছেন।এর আগে বিগত ১/১/২০২৪ ইং তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সেরেস্তা সহকারী আব্দুর রহিম আমার সাথে একজন এডভোকেট এর মধ্যেমে চুক্তি করে অধিগ্রহণ কৃত জমির টাকার পরিমাণ যাই হোক ৫০% ছাড় দিতে হবে।আব্দুর রহিমের এমন প্রস্তাবে আমি রাজি হয়ে যায়।এরপর ১/১/২০২৪ তারিখে শুনানি হলে অধিগ্রহণ কর্মকর্তা কর্মকর্তা আমার বা আমার এডভোকেট এর কোন কথা শুনতে রাজি হয়নি।আমি যখন উনাকে আবুল খায়ের এর মালিকানা জমির কাগজপত্র ভূয়া বলি তখন উনি আমাকে এলএসটি মামলা করার পরামর্শ দেন।তারপর আমি বিগত ২০/৩/২০২৪ ইং তারিখে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইভ্যুনাল আদালতে খতিয়ান সংশোধনী মামলা করে এর পরে তারিখ ১/২/২৪ ইং তারিখে শুনানি সময় আমি এলএসটি মামলা কপি দিলে তিনি রিসিভ করেন এবং পরবর্তীতে ৪/৬/২০২৪ ইং তারিখে আমাকে কোন নোটিশ বা মৌখিক ভাবে কিছু না বলে। ভূয়া এওয়ার্ডী আবুল খায়েরকে ১৯ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন। এই বিষয়টি আমি গতকাল বিকেলে শুনতে তাৎক্ষনিক ভূমি অধিগ্রহণের কেরানি হুমায়ুন কবিরকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি প্রথমে বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।পরে শিকার করেন!আবুল খায়েরকে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আহসান হাফিজ ১৯ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেছে।এ বিষয়ে আদালতে ও দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের মামলা প্রকৃয়াধিন চলছে।

Loading