পশ্চিমবঙ্গের কবি সুলক্ষণা আঢ্য এর দুটি কবিতা

প্রকাশিত: ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ , জুলাই ১৫, ২০২০
১.প্রিন্সেস সেপ্টেম্বর এবং কিছু ব্যক্তিগত আবেগ
উইলো গাছটার পাশ দিয়ে বিস্তীর্ণ মেঠো পথ ধরে ,
জানলা দিয়ে দেখি…রোজ উড়ে যাও তুমি ।
তোমার ধূসর ডানায় মেশে দিগন্ত ভাঙা নীল ।
দূর থেকে তুমি যেন ইচ্ছে প্রজাপতি ।
আমার জানলার সোনার শিকগুলো আরো প্রশস্ত হয়…
 
বুঝি — প্রিয়জনের ফেরার নিশ্চয়তা একটা মিথ ।
তোমার নরম মনে বেঁচে থেকেও হারানোর তীব্র ভয় পাই আমি ।
তবে, এসো…থাকো তুমিও আমারই মতো এক খাঁচায়!
দুজনের মুক্তি থাক চারটে চোখে…
 
একি…..! ভোরের মিষ্টি আলো তবু তুমি এত বিমর্ষ কেন?
গাও পাখি …. গাও একটা দুঃখ ভোলানো একান্ত গান ।
 
যদি ফের নীল দেখাই তবে কি গাইবে সেই গান ?
আমি মাঠ দেখাই, ফুল দেখাই, দেখাই নদী…তবু তোমার কণ্ঠে গান নেই !
তুমি বলো-শিকলে বাঁধা সব মুক্তির ছবিই মরীচিকা, আর মাথা কুটতে থাকো খাঁচার জানালায় !
 
তখন আমার হৃদপিন্ডে জাগে এক মীরা বাঈ,
গানের জন্য যখন তোমার উড়াল চাই… তবে যাও উড়ে ।
মনে পড়লে রেখো ফেরার প্রতিশ্রুতি ।
বুঝি , মনে পড়ার জন্য দূরত্ব চাই, চাই মুক্ত ডানা ।
দ্যাখো ,ভালোবাসার জন্য আমিও সহস্র বছর অপেক্ষায় …
 
২.সাপলুডো
তোমার আমার
সাপলুডোর সংসার
প্রতিদিন আশংকায় দ্রবীভূত হয় দুঃখ !
যত প্রার্থনা জমা হয় ডাইসে
দেখি-
প্রতিটা দানই নিম্নগামী,
আসলে জ্যান্ত মানুষের শোক
মৃত হতে চাওয়া মানুষ বোঝে
 
নরক শুধু একমুখী দরজা
সামনে দাঁড়িয়ে সাদাপাতা হয় চোখ,
তবু ঠোঁট আর প্রতিবাদ আঁকে না !
ভালোবাসাবাদ হয় না, শুধু বাদ হয় …..
বদল স্তম্ভিত মুখে তাকিয়ে দ্যাখে –
ফাঁকা ক্যানভাসে ফুটে উঠছে সহ্যের কালশিটে !