মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র আষাঢ়ে গল্প “সেইম টু সেইম” নিউজ৭১অনলাইন নিউজ৭১অনলাইন প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ , জুলাই ৪, ২০২৫ কার্টুনিস্ট মোহাম্মদ শহীদুল্লাহচাচা তুমি আমারে রাইকখা আইসা পড়লা।কামডা বেশি ভালা করলানা। তোমারই হাতে গড়া আমি। চেষ্টা করছিলাম তোমার ঐতিহ্য ধইরা রাখতে । কিছুটা সফলও হৈছিলাম।চাইর-পাঁচটা চ্যাংরা পুলাপানেরে কত্ত কিছু শিখাইছি। হেরা এখন লাইনে আছে । একটাও বেলাইনে নাই। খালি আমার পুলাডা বেলাইনে গেছে । ডিগ্রী -ডুগ্রী লইছে। এহন হুনছি পুলিশে দরখাস্ত জমা দিছে । কওছে দেহি , সবাইরে আমরা বেলাইন থাইককা লাইনে আনি ;আর আমাদের ভিতরের রক্ত বেলাইনে যাবে এইডাও কি সহ্য করন যায়? চাচাগো— তুমিই শিখাইছো– নেশার উপরে সত্য আর কিছুই নাই ।আমার কুত্তাডারে এখন কেডা যত্ন করেরে হাছুইননা?কুত্তাডা ম্যালা দিন আসে নাই। পশু হৈলেও তুমি তারে রোজই বনরুটি খাওয়াইতা। এইডা তার মনে রাখছে । এহনো মনে চাইলে তোমার লাগানো গন্ধরাজ গাছের কাছে বইসা চিক্কুর পাইরা কান্দে ।বৌ বাচ্চা?আর কইয়োনা। চাচী -ত এহন আরেক ব্যাডার লগে বাও করছে। ছেড়াডারে এতিমখানাত দিছে । তোমার ছোটভাই তোমার সব জায়গা জমি পানির দামে বেচা শ্যাষ।তর পরিবারের খবর কী?কষ্ট! চাচা! বুকটা যদি ফাইড়া — লাইড়া দেখাইতে পারতাম । হে–ও হেই যে বাহের বাড়ি গেল, আমি লাইফ সাপোর্টে আছি শুইনাও সে আসে নাই । কী রহম বেততমিজ! ভাগ্য ভাল পুলাপান নাই । নাইলে হেরা অযথাই কষ্ট পাইত। আমারও ইকটু আকটু দোষ আছে । নেশার ঘোরে হেরে কত মাইর দিছি । মারতে মারতে হের দাঁত দিয়া রক্ত ছুটছে । এক ডোজ ডাইলের লাইগগা হে নানান কায়দা কইরা ট্যাহা আইননা দিছে বাহের বাড়িত তে।আমার ছাগলডা কইছিলাম বেইচা দিতে–মনে আছে তোর হেই যে ছাগলডা–শশুর বাড়িত থাইককা চুরি করছিলাম ।হ । ছাগল ডা ম্যালা বাচ্চা দিতো । দুধ দিত। এর মধ্যে একটা অঘটন ঘটলো।কী অঘটন?বাচ্চা কালে বুঝা গেছেনা। বড় হলে বুঝা গেল ছাগলের বাচ্চাগুলা অরিজিনাল ছাগল না ।এরা সব জিরাফ । পরে একটা উলটা পালটা লাগলো । ফকির ইলিয়াসের তেল পানিও ফেইল। জিরাফের চেহারাই ধরলো। পা’ও দুইটা বারো ফুট লম্বা হইয়া গেছে । গলাডাও অনেক লম্বা। কী আর করা —বাড়ির সব গাছপালার আগা ,ডাল লতাপাতা খায়া সাবার । গোয়াল ঘরেও রাখা যাইতাছে না । চাল ভেদ কইরা জিরাফেরা গলা ঢুকায়াও বিচিত্র আওয়াজ দিয়া বলে— আমরা কপি দিয়া ট্যাংরার ঝোল খাইতে চাই । কালা মুরগীর ভুনা খাইতে চাই ।তুই মিছা কতাডা ছারছ নাই রে হাছুইননা ।জিরাফ কী কোনো আওয়াজ করে? তর মাতাডা আসলেই আউলাইয়া গেছে ।আমি পষ্টাপষ্টি হুনছি ।বুজ্জি তর মাতাডা ঠিক অইতে ম্যালা সময় নিব । আমিও নেশা খাইছি । কিন্তু মাথার ইস্ক্রুপ এত ঢিলা আছিল না ।চাচা ভাতিজার টক -শো চলছিল । কিন্তু একটা কল্পরাজ্যের রাক্ষস এসে দুটোকেই লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলেছে । একটা সস্–প্যানে মশলা তেলের পেস্ট বানিয়ে দুটোকেই ভাজা শুরু করেছে। পাশে একটা রাক্ষস শিশু কাঁটা চামচে টুইংটুন শব্দ তুলছে । আর ঢোক গিলছে ।কোথাও যেন ছাগলের শব্দ পাওয়া গেল । কতগুলো জিরাফ । ওগুলোর গলা দিয়ে ছাগলের ভ্যা– ভ্যা শুনে রাক্ষসের ভাবাবেগ বদলালো না ।( ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত রম্য গল্প ) শেয়ার শিল্প-সাহিত্যবিষয়: