মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র আষাঢ়ে গল্প “সেইম টু সেইম”

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ , জুলাই ৪, ২০২৫
কার্টুনিস্ট মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

চাচা তুমি আমারে রাইকখা আইসা পড়লা।কামডা বেশি ভালা করলানা। তোমারই হাতে গড়া আমি। চেষ্টা করছিলাম তোমার ঐতিহ্য ধইরা রাখতে । কিছুটা সফলও হৈছিলাম।চাইর-পাঁচটা চ্যাংরা পুলাপানেরে কত্ত কিছু শিখাইছি। হেরা এখন লাইনে আছে । একটাও বেলাইনে নাই। খালি আমার পুলাডা বেলাইনে গেছে । ডিগ্রী -ডুগ্রী লইছে। এহন হুনছি পুলিশে দরখাস্ত জমা দিছে । কওছে দেহি , সবাইরে আমরা বেলাইন থাইককা লাইনে আনি ;আর আমাদের ভিতরের রক্ত বেলাইনে যাবে এইডাও কি সহ্য করন যায়?
চাচাগো— তুমিই শিখাইছো– নেশার উপরে সত্য আর কিছুই নাই ।

আমার কুত্তাডারে এখন কেডা যত্ন করেরে হাছুইননা?

কুত্তাডা ম্যালা দিন আসে নাই। পশু হৈলেও তুমি তারে রোজই বনরুটি খাওয়াইতা। এইডা তার মনে রাখছে । এহনো মনে চাইলে তোমার লাগানো গন্ধরাজ গাছের কাছে বইসা চিক্কুর পাইরা কান্দে ।

বৌ বাচ্চা?

আর কইয়োনা। চাচী -ত এহন আরেক ব্যাডার লগে বাও করছে। ছেড়াডারে এতিমখানাত দিছে । তোমার ছোটভাই তোমার সব জায়গা জমি পানির দামে বেচা শ্যাষ।

তর পরিবারের খবর কী?

কষ্ট! চাচা! বুকটা যদি ফাইড়া — লাইড়া দেখাইতে পারতাম । হে–ও হেই যে বাহের বাড়ি গেল, আমি লাইফ সাপোর্টে আছি শুইনাও সে আসে নাই । কী রহম বেততমিজ! ভাগ্য ভাল পুলাপান নাই । নাইলে হেরা অযথাই কষ্ট পাইত। আমারও ইকটু আকটু দোষ আছে । নেশার ঘোরে হেরে কত মাইর দিছি । মারতে মারতে হের দাঁত দিয়া রক্ত ছুটছে । এক ডোজ ডাইলের লাইগগা হে নানান কায়দা কইরা ট্যাহা আইননা দিছে বাহের বাড়িত তে।

আমার ছাগলডা কইছিলাম বেইচা দিতে–মনে আছে তোর হেই যে ছাগলডা–শশুর বাড়িত থাইককা চুরি করছিলাম ।

হ । ছাগল ডা ম্যালা বাচ্চা দিতো । দুধ দিত। এর মধ্যে একটা অঘটন ঘটলো।

কী অঘটন?

বাচ্চা কালে বুঝা গেছেনা। বড় হলে বুঝা গেল ছাগলের বাচ্চাগুলা অরিজিনাল ছাগল না ।এরা সব জিরাফ ।
পরে একটা উলটা পালটা লাগলো । ফকির ইলিয়াসের তেল পানিও ফেইল। জিরাফের চেহারাই ধরলো। পা’ও দুইটা বারো ফুট লম্বা হইয়া গেছে । গলাডাও অনেক লম্বা। কী আর করা —বাড়ির সব গাছপালার আগা ,ডাল লতাপাতা খায়া সাবার । গোয়াল ঘরেও রাখা যাইতাছে না । চাল ভেদ কইরা জিরাফেরা গলা ঢুকায়াও বিচিত্র আওয়াজ দিয়া বলে— আমরা কপি দিয়া ট্যাংরার ঝোল খাইতে চাই । কালা মুরগীর ভুনা খাইতে চাই ।

তুই মিছা কতাডা ছারছ নাই রে হাছুইননা ।জিরাফ কী কোনো আওয়াজ করে? তর মাতাডা আসলেই আউলাইয়া গেছে ।

আমি পষ্টাপষ্টি হুনছি ।

বুজ্জি তর মাতাডা ঠিক অইতে ম্যালা সময় নিব । আমিও নেশা খাইছি । কিন্তু মাথার ইস্ক্রুপ এত ঢিলা আছিল না ।

চাচা ভাতিজার টক -শো চলছিল । কিন্তু একটা কল্পরাজ্যের রাক্ষস এসে দুটোকেই লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলেছে । একটা সস্–প্যানে মশলা তেলের পেস্ট বানিয়ে দুটোকেই ভাজা শুরু করেছে।
পাশে একটা রাক্ষস শিশু কাঁটা চামচে টুইংটুন শব্দ তুলছে । আর ঢোক গিলছে ।

কোথাও যেন ছাগলের শব্দ পাওয়া গেল ।
কতগুলো জিরাফ ।
ওগুলোর গলা দিয়ে ছাগলের ভ্যা– ভ্যা শুনে রাক্ষসের ভাবাবেগ বদলালো না ।

( ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত রম্য গল্প )

Loading