সেফটি ট্যাংকি থেকে মরদেহ উদ্ধার

নোয়াখালীতে বিবাহ বিচ্ছেদের জের ধরে মামাকে হত্যা

প্রকাশিত: ৬:০৬ অপরাহ্ণ , মে ১০, ২০২২

ইফতেখাইরুল আলম নোয়াখালী :

নোয়াখালী সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের সেফটি টাংকি থেকে উদ্ধারকৃত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে।

জানা গেছে,নিহত ওমর ফারুক (৩০) কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর ঝাপুয়া গ্রামের মৃত আলী আহম্মদের ছেলে। এ ঘটনায় হত্যাকান্ডের মূল আসামি আনছারুল করিম (৩৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিং এ তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো.শহীদুল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃত আনছারুল করিম উত্তর ঝাপুয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে।নিহত ওমর ফারুক সম্পর্কে আনছারুল করিমে মামা হন।

পুলিশ সুপার জানান, নোয়াখালী সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের উত্তর চাকলা গ্রামের হারুনের মেয়ে শারমিন আক্তারের সাথে পারিবারিক ভাবে গত ২০১৮ইং সালে বিয়ে হয় আনছারুল করিমের। স্বামী স্ত্রী বিচ্ছেদের জেরে চলতি বছরের গত ২০ এপ্রিল কাজীর মাধ্যমে তালাক দিয়ে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এ ঘটনায় আনছারুল করিম তার স্ত্রীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে শারমিনের পরিবারকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তার মামা ওমর ফারুককে কৌশলে গত ৫মে শারমিনদের বাড়িতে নিয়ে আসে করিম। এ সময় রাতে তার পরিচিত একজনের সহযোগিতায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে শারমিনদের সুপারি বাগানের ভিতরে গলায় শার্ট পেঁছিয়ে ফারুককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে করিম।

আসামির স্বীকারোক্তি মতে হত্যার পর ওইরাতে ফারুকের মৃতদেহ নিজের শ্বশুরদের বাড়ির উত্তর পাশের সেফটি টাংকিতে রেখে পুনঃরায় চট্টগ্রাম পালিয়ে যায় করিম ও তার সহযোগি রাসেল।সোমবার দুপুরে সেফটি টাংকি থেকে লাশ উদ্ধারের পর অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের পর চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের মূল হোতা ওমর ফারুককে আটক করা হয়।

পুলিশ সুপার আরো জানান, স্ত্রী ও শ্বশুরের পরিবারের লোকজনকে ফাঁসাতে সে এ পরিকল্পনা এবং হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার উক্তি প্রদান করেছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টায় পুলিশের অভিযান অব্যহত থাকবে।