কুবিসাসের সেক্রেটারি কর্তৃক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৬:৪৯ অপরাহ্ণ , মার্চ ২৪, ২০২২

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) মেহেদী হাসান মুরাদ নামে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) সকালে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. আল আমিন বলেন,
৩১৭ নম্বর রুমে অবস্থান করা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ সরকার রুম থেকে বের হওয়ার সময় দেখে পাশের রুম থেকে ময়লা পানি তার রুমের দিকে আসছে। এ সময় বিশ্বজিত তার বন্ধু মামুনকে ডাক দিয়ে এই পানি পরিষ্কার করতে বলে। তখনই পাশের ৩১৬ নম্বর রুম থেকে মেহেদী হাসান মুরাদ তাকে ডাক দিয়ে বিভাগ ও ব্যাচ জানতে চায়। বিশ্বজিৎ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নাম বলার সাথে সাথে মুরাদ তার উপর চড়াও হয় এবং এলোপাথাড়ি মারধর করে।

এ ব্যাপারে বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, ‘ওরা আমার রুমের পশ্চিম দিকের দুইটা রুমে ওঠে পানি দিয়ে রুম পরিষ্কার করছিলো। সেই পানি আমার রুমে এসে সবকিছু ভিজে যাচ্ছিলো তারপর আমি মামুনকে বললাম মামুন তুই পানিটা পরিষ্কার করে ফেল। তারপর এটা শোনে মুরাদ ভাই আমাক ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করলো, তুই কোন ব্যাচ ? আমি বললাম ১২ ব্যাচ। তারপর বললো, কোন ডিপার্টমেন্ট? আমি বললাম সাংবাদিকতা বিভাগ। এটা বলার পরই ভাই আমাকে কয়েকটা থাপ্পড় মারলো। ওনাকে কেউ আটকাতে পারছিলনা এতোটা এগ্রেসিভ ছিলেন, পরে যাতা গালি-গালাজ করলো আমাকে।

মারধরের শিকার বিশ্বজিৎকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকে কুমিল্লা মেডিকেলে ট্রান্সফার করে মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. এ কে এম হেলাল মুরশেদ

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. এ কে এম হেলাল মুরশেদ বলেন, সে বললো তার কানে ব্যথা করছে । প্রাথমিকভাবে বাহির থেকে দেখে তেমন বুঝা যায়নি। আর কান ভিতর থেকে পরীক্ষা করার যন্ত্রও আমাদের এখানে নেই। তাই তার ডিজায়ার অনুযায়ী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ট্রান্সফার করেছি।

মেহেদী হাসান মুরাদ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ও স্থানীয় দৈনিক রূপসী বাংলার কুবি প্রতিনিধি। এ ঘটনার ব্যাপারে তার সাথে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ ঘটনায় মারধরের শিকার বিশ্বজিৎ সরকার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে ১০ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক মেহেদী হাসান মুরাদকে মাদকাসক্ত ছিল উল্লেখ করেন। অভিযোগপত্রে মেহেদী হাসান মুরাদকে উদ্বৃত করে তিনি আরো বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ আমার (অশোভন শব্দ) ছিড়তে পারবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম এ ব্যাপারে বলেন, এরকম ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, আমরা বিষয়টি আন্তরিকভাবে দেখছি। অপরাধী যেই হোক। তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে।

Loading