নোয়াখালীর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ঢাকায় এস বিতে বদলি

প্রকাশিত: ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ , জুলাই ১৪, ২০২১
ইফতেখাইরুল আলম,নোয়াখালী
নোয়াখালী জেলাতে গত দু বছরে ১৭ টি ডাকাতি এবং ১৫ টি ক্লুলেস খুনের ঘটনায় প্রত্যেকটি মামলার আসামি গ্রেফতার সহ রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। ফলে অপরাধ কমেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে।জেলাকে মাদক মুক্ত করার প্রত্যয়ে প্রধান মন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে ৭৯,২,৮৯ পিজ ইয়াবা ৬২ কেজি গাঁজা ও ৩,৮৪ লিটার চোরাইমদ সহ বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার করে ১,৬৪৭ মামলায় ২,২৬৭ জন আসামিকে আইনের আওতায় এনেছেন।এই ছাড়া রাইফেল,বন্দুক,রিভলবার, পাইপগান, এলজি সহ বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র উদ্ধার করে ১,৪২টি মামলায় ২,১৩ জন আসামিকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় ৫ দিনের মধ্যে সকল আসামি গ্রেফতার এবং ২০২০ইং সালে চরজব্বর থানার এলাকায় মৃতদেহকে ৫ টুকরো করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখার ঘটনায়,অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে আপন ছেলে হুমায়ুন কবিরকে গ্রেফতার করে সাধারণ মানুষের মাঝেই স্বস্তি নিঃশ্বাস ফিরে আসে।শুধু তা নয়,পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন,নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের ২০ দিনের মাথায় পুলিশে কনেস্টেবল পদে নিয়োগে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতি মুক্ত ভাবে ২,৩২ জনকে নিয়োগ দেন শুধু মাএ ১’শত টাকার ব্যংক চালানের মাধ্যমে এতে বিনা পয়সায় মেধা ও দারিদ্র্য দিনমুজুর ও রিকশাওয়ার চাকরি পেয়েছে।এইছাড়া তিনি পুলিশ লাইন্সের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আগাছা পরিষ্কারের মাধ্যমে পরিত্যক্ত জমিতে মাটি বরাট করে বিভিন্ন জাতের ফল মূল শাকসবজি চাষ করে পুলিশ লাইন্সকে অপরুপ সাজে সাজিয়েছেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে জেলা পুলিশের অবদানকে স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখার জন্য তিনি পুলিশ লাইন্সে দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য স্থাপন করেছেন।কোভিড-১৯ মোকাবেলায় তিনি পুলিশ কোভিড অক্সিজেন ব্যংক স্থাপন করেন।এইছাড়া করোনার লিফলেট বিতরণ সহ জন-সাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি পালনের জন্য তিনি নিজেই মাক্স বিতরণ করে সবাইকে উৎসাহ দেন।এইছাড়া প্রতিটি থানার অফিসার ইনচার্জ ও পুলিশ সদস্যগন বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ান্টাইন নিশ্চিত সহ কোভিড-১৯ রোধকল্পে সরকারের নিদের্শনা বাস্তবায়নে আন্তরিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।পুলিশ ইউনিটগুলোর মধ্যে প্রথম পুলিশ কোভিড-১৯ অক্সিজেন ব্যংক সেবা চালু করার পরে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ৩,১২ কোভিড আক্রান্ত ও মুমূর্ষু রোগী এই সেবা গ্রহন করেছেন।নোয়াখালী ছাড়া ও এই সেবা লক্ষিপুর,ফেনী,কুমিল্লা জেলার জনসাধারণ ভোগ করেছেন।জেলাবাসি ও পুলিশের জন্য সত্যি আনন্দের ও গর্ভের।কোভিড-১৯ পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে ভিটামিন সি.ডি জিংক ট্যাবলেটসহ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সহ আক্রান্ত পুলিশদের খোজ খবর নিয়ে পাশাপাশি ফলমূল পৌঁছে দেন।এতে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা এবং কর্ম- উদ্দীপন বৃদ্ধি পেয়েছে।আর্থিক লেনদেন ছাড়া জিপিএফ পাওয়া যায় না,এরুপ ধারণাকে তুলে দিয়ে সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় সকল পুলিশ সদস্যের জিপিএফ হিসেবে লিষ্ট পৌঁছে দিয়ে পুলিশ বাহিনীর জন্য এক নজীর স্থাপন করেছেন।কর্মহীন হয়ে পড়া দুস্ত অসহায় প্রতিবন্ধী সুবিধা বন্চিত বেদে হিজড়া ও ভিক্ষুক সম্প্রদায় সহ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধা,নিহত পুলিশ পরিবার এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিবার ও নদী ভাঙ্গা ফুল ব্যবসায়ীদের মাঝেই খাদ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত সামগ্রী ও শিশু সহ বিভিন্ন বয়সের ৪০ জন প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়।এই ছাড়া আনোয়ার হোসেন নামে ২০০৯ ইং সালে এক পুলিশ কনেস্টেবল সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু কালে ৩ মেয়ে ১ ছেলে রেখে গেলে এ খবর তিনি টিভিতে দেখে এক মেয়ের দায়িত্ব নিয়ে মেয়েকে বিয়ে দেন।করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিদের কেউ দাফন না করলে তিনি খবর পেলে ছুটে যান।সময় মত মুমুর্ষ রোগীর জন্য এ্যাম্বুলেন্স না পেলে তিনি পিক-আপের ব্যবস্থা করে দেন।সড়ক দুর্ঘটনায় রিকশা চালক আবুল খায়ের নামে একজনকে চিকিৎসার ও মুধি দোকানের ব্যবস্থা করে দেন।ইতিবাচক কার্যক্রমের ফলে পুলিশের প্রতি জনসাধারণের আস্থা, বিশ্বাস ও যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়ে সমাজকে মাদক, জঙ্গি,সন্রাস এবং ইভটিজিং চুরি ডাকাতি সহ সামাজিক অপরাধ দমনে কাজ করেছে পুলিশের সাথে জনগণ।সরাসরি তদারকির কারনে থানায় সাধারণ ডায়েরি পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন,পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রদানে স্বচ্ছতা ও দ্রুত সেবা প্রদান নিশ্চিত হয়েছে।এইছাড়া জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং করোনা সংক্রমণ থেকে জেলাবাসিকে রক্ষা করে তিনি দিন রাত ২৪ ঘন্টায় কাজ করতে গিয়ে নিজেই স্ব-পরিবারে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন।নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ পেলেন মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন।