একুশ -মতিউর রহমান

প্রকাশিত: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১

সেদিন ভোরের আকাশে পূর্ব দিগন্তে অন্য সব দিনের মতই সূর্য হেসে উঠেছিল

পাখিরা আপন মনে কলরবে মেতেছিল

রাখালেরা লাঙ্গল কাঁধে চেপে মাঠে যাচ্ছিল

গৃহবধূরা তালপাতার ছায়ায় খেজুর পাতার পাটি বুনছিল

ধর্মভাইদের বিমাতৃসুলভ আচরণও সমহিমায় চলছিল।

কিন্তু সেদিন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর অন্যায়কে মেনে নেওয়ার প্রবণতায় লাগাম টেনে ধরেছিল।

তাই প্রতিবাদী জনতা রাজপথে নেমেছিল।

জনতার প্রতিবাদী কণ্ঠের জলোচ্ছ্বাসে সরকারি বাহিনীর অস্ত্রধারী শকুনের দল নিরব থাকতে ক্রমেই ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে।

সেদিন ঐ ভীত সন্ত্রস্ত শকুনের দলের অস্ত্রগুলো হায়েনার মতো সমস্বরে গর্জে উঠেছিল

যে গর্জনে রফিক, সালাম, জব্বারসহ আরো অনেকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল।

কারণ একটাই সেদিন সবকিছু স্বাভাবিক ভাবে আপন মনে নিজস্ব গতিতে চলছিল তবে স্বাভাবিক ছিল না জনতার কণ্ঠস্বর।

কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনতার ঐ প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দেয়নি অস্ত্রধারী শকুনের দল।

তাই একুশ মানেই শকুনের দলের গর্জে ওঠার দিন ন্যায়ের বিরুদ্ধে

আর বাঙালির প্রতিবাদী কণ্ঠের গর্জে ওঠার দিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে।

একুশ মানেই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার দিন

আর বাঙালির প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে বলীয়ান করার দিন।