চকবাজারে ইটারনালের প্রতারণায় সর্বশান্ত ভূমি মালিক

প্রকাশিত: ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ , জানুয়ারি ২১, ২০২১

চকবাজারস্থ উর্দু গলির মুখে ইটারনাল সাফারি সানসেট টাওয়ার নির্মাণের লক্ষ্যে মৌরশী সূত্রে দখল প্রাপ্ত ২০ শতক জায়গায় ১৫ তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে ইটারনাল ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের সাথে ভূমি উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৪ই মে ২০০৯ ইংরেজি তারিখে চুক্তি সম্পাদন করেন এবং বিগত ১৭ই মে ২০০৯ তারিখে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলে চুক্তিবদ্ধ হন এবং একই তারিখে আমমোক্তারনামা প্রদান করেন। ইটারনাল ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হইতে তফসিলভুক্ত বিশ শতক জমিতে “ ইটারনাল সাফারী সানসেট টাওয়ার ” নামক ১৫ তলা ভবন নির্মাণের অনুমতি লাভ করেন। কিন্তু তৎপরবর্তী ২০২১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও এ.কে. এম এমতাজুল ইসলামের মালিকানাধীন ইটারনাল ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড এর উদাসীনতার কারণে কাজ সম্পন্ন হয়নি । চুক্তি মোতাবেক ৩ বছরের মধ্যে ১৫ তলা ভবনের কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার কথা থাকলেও ১২ বছরে কাজ সম্পন্ন না করে ৮ তলা পযর্ন্ত ছাদ ঢালাই করে ব্যাংক এবং বিভিন্ন ব্যাক্তির কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন উক্ত ডেভেলপার কোম্পানীর এমডি এ.কে. এম এমতাজুল ইসলাম।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপমেন্ট ফাইন্যান্স কোম্পানির (আই আই ডি এফ সি ) কাছ থেকে আমমোক্তারনামা দলিল দিয়ে ইটারনাল ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড ৬ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেন যা বর্তমানে ১১ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় উপনীত হয়েছে। আই আই ডি এফ সি অর্থঋণ আদালতে মামলা করেন। ইটারনাল ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড এর বিরুদ্ধে । আই আই ডি এফ সি ফাইন্যান্স কোম্পানি ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে ইটারনাল সাফারী সানসেট টাওয়ার এর ইটারনাল ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড এর অংশ নিলামে তোলেন । নিলামের বিজ্ঞাপনটি বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত একটি জাতীয় দৈনিকে প্রচারিত হয় । ইটারনাল ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড উচ্চ আদালতে রিট করে নিলাম স্থগিত করেন। উল্লেখ্য আই আই ডি এফ সি ফাইনান্স কোম্পানির কাছে মর্টগেজ থাকা অবস্থায়ও প্রতারণার মাধ্যমে
বিভিন্ন ব্যক্তিকে রেজিস্ট্রেশন দেন ইটারনাল ডেভলপার কোম্পানীর এমডি এ.কে. এম এমতাজুল ইসলাম । ভুমির মালিক,ফাইন্যান্স কোম্পানি এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে প্রতারণা প্রসংগে জানতে ইটারনাল ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড এর মালিক এ.কে. এম এমতাজুল ইসলামের মোবাইলে বারবার ফোন দিয়ে না পেয়ে উনার অফিসে গেলে অফিস তালাবদ্ধ পাওয়া যায় ।

ভুমি মালিকদের পক্ষে তারেক নুর বলেন, আমাদের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই ২০ শতক জায়গায় আমাদের পুরানো বাড়ি ছিল। আমরা কয়েক লক্ষ টাকা ভাড়া পেতাম এই টাকা দিয়ে আমরা মৃত আহমেদ নূর -ই-এলাহীর ওয়ারিশদের সংসার চলত।এখন আমাদের আয়ের
কোন উৎস নেই । বাড়িটি অসমাপ্ত রেখে ডেভলপার কোম্পানী চলে যাওয়ায় আমরা রাস্তার ভিখারির মতো জীবনযাপন করছি । তিনি আরো বলেন,২০০৯ সালে ইটারনাল ডেভলপমেন্ট কোম্পানির এমডি আমাদের কাছে এসে বলেন আপনাদের জায়গাটা ভুমি উন্নয়নের জন্য আমাদের দেন,তিন বছরের মধ্যে ১৫ তলা ভবন করে দেবো, আপনাদের আর কোনো দুঃখ থাকবে না । আমরা সুখের আশায় প্রতারকের খপ্পরে পড়ে রাস্তার ভিখারি হয়ে গেছি । চুক্তি মোতাবেক ইটারনাল এর কাছে আমরা ঘর ভাড়া বাবদ ১২ বছরে প্রায় ৩ কোটি টাকা পাবো। উনার সাথে যোগাযোগ করলে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন।
ভবনটি অসমাপ্ত পড়ে থাকায় বিভিন্ন ব্যক্তিরা দখল করার অপচেষ্টায় আছেন । আমরা এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।