কেজি স্কুলের চাপ প্রাইমারিতে

প্রকাশিত: ৯:৪০ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ৭, ২০২১

অর্থ সংকটসহ নানা কারণে কিন্ডারগার্টেন (কেজি) স্কুল ছাড়ছে শিক্ষার্থীরা। এসব শিক্ষার্থীর বড় একটি অংশ এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে শুরু করেছে। নগরীর প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন কোন কোন কেজি স্কুল থেকে একাধিক শিক্ষার্থী এসে ভর্তি হচ্ছে।

নগরীর বিভিন্ন কেজি স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুরো বছরের বেতন/ফি বাকি থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা এখন স্কুলে আসছে না। এসব শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে এবং কিছু শিক্ষার্থী শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে। পূর্বের বিদ্যালয়ের বেতন-ফি বাকি থাকায় যেসব শিক্ষার্থীদের কেজি স্কুলগুলো ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দিচ্ছে না। পূর্বের ক্লাসের যে কোন একটি প্রমাণ থাকা সাপেক্ষে সেসব শিক্ষার্থীদের টিসি ছাড়াই ভর্তি করানো হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। ফিরিঙ্গী বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শুক্লা মজুমদার বলেন, আজ (বুধবার) অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকার সাথে এ বিষয়ে আমরা কথা বলছিলাম। কয়েকদিন ধরেই লক্ষ্য করেছি, আশপাশের কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো থেকে আমাদের স্কুলে শিক্ষার্থী আসছে। কিছু স্কুল থেকে টিসি আনতে গেলে পুরো বছরের বেতন ও ফি পরিশোধ করতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) টিসি আনতে পারছে না। তাই আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কোন শিক্ষার্থী টিসি আনতে না পারলেও আমরা তাদের ভর্তি করাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, গত কয়েকদিনে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ২০ জনের অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। তারা সবাই অরবিট ক্যাডেট, গোল্ডেন ব্রেনসহ আশপাশের কেজি স্কুল থেকে এসেছে। পাথরঘাটা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফেরদৌস আরা খানম চৌধুরী জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার যে সরকারি প্রাথমিকে বেশি শিক্ষার্থী আসতে পারে, সে ব্যাপারে আমরা অবগত। তবে এখনো অন্য স্কুল থেকে খুব বেশি শিক্ষার্থী আসেনি। বুধবার পাশের সানশাইন স্কুল থেকে একজন শিক্ষার্থী এসেছে। চরচাক্তাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সোমা দত্তের সাথে কথা বলেও একই তথ্য পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, আমাদের পাশের ট্যালেন্ট পাবলিক স্কুল, সানরাইজ গ্রামার স্কুলসহ আরো কয়েকটি স্কুল থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের স্কুলে ভর্তি হয়েছে। আবার আমাদের স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী গ্রামে চলে গেছে। মুরাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তাসমিন আখতারের সাথে কথা হলে জানান, অংকুর সোসাইটি ও অরবিট স্কুল ছাড়াও এলাকার বেশ কয়েকটি কেজি স্কুল থেকে শিক্ষার্থী এসে আমাদের স্কুলে ভর্তি হয়েছে। ফ্রেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমাদের ভর্তি কার্যক্রম চলবে।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা রয়েছে, কোন শিক্ষার্থী যদি নির্ধারিত এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আসে ওই শিক্ষার্থীকে অবশ্যই ভর্তি করাতে হবে। তবে অন্য এলাকার কোন শিক্ষার্থী যদি আসে, আসন সংখ্যা খালি থাকা সাপেক্ষে ওই শিক্ষার্থীকেও ভর্তি করাতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর অনুপাতে আমাদের পর্যাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তাই যদি কোন শিক্ষার্থী কেজি স্কুল থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাালয়ে আসে, ভর্তি নিতে কোন সমস্যা হবে না।## পূর্বকোণ