‘আল্লামা শফীর মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করবেন না’

প্রকাশিত: ৪:৪৩ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

হেফাজতে ইসলামের আমির ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসার সদ্য প্রয়াত মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

হাটহাজারী মাদরাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়। আজ সোমবার দুপুরে বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান তারা।বিবৃতিতে বলা, কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধারে আহমেদ শফীর মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করা ও কওমি অঙ্গনে বিশঙ্খলা করা ঠিক হবে না। কারণ আহমদ শফীর মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করা নির্জলা মিথ্যা ছাড়া আর কিছু নয়।বিবৃতিতে বলা হয়, স্বজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় শাহ আহমদ শফী মাদরাসার শুরা কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন।

তার মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে হয়েছে। তার মৃত্যুতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাইরের কোনও সংগঠন বা কোনও শিক্ষকের উসকানিতে মাদরাসায় আন্দোলন হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। নিয়মিত ক্লাস চলছে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক সবাই সন্তুষ্ট।

বিবৃতিদারা হলেন মাদরাসা পরিচালনা কমিটির প্রধান মুফতি আবদুস সালাম, সদস্য শেখ আহমদ এবং ইয়াহিয়া, প্রধান শায়খুল হাদিস এবং শিক্ষাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী, সহকারী শিক্ষাসচিব মাওলানা শুয়াইব, মুফতি জসিম উদ্দিন, শিক্ষক কবির আহমদ, আশরাফ আলী নিজামপুরী, আহমদ দিদার কাসেমী ও ফোরকান আহমদ।
আহমদ শফী ছাত্রদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গেলো ১৭ সেপ্টেম্বর মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। সেইসঙ্গে শুরা কমিটি মাদরাসার শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীকে।

এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর ছাত্ররা আনাস মাদানীর অব্যাহতিসহ ছয় দফা দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। দাবি মেনে নেয়ায় ১৭ সেপ্টেম্বর আন্দোলন সমাপ্তি ঘোষণা করে ছাত্ররা। সেদিন রাতেই আহমদ শফীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৮ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।