বেনাপোলে হাজী বিরিয়ানী হাউস সহ অন্যান্য বিরিয়ানী দোকানের বিরুদ্ধে খাবারে রং মেশানো ও পরিমাণ নিয়ে ভোক্তাদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ, নীরব কর্তৃপক্ষ

প্রকাশিত: ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ , নভেম্বর ২৭, ২০২৫

যশোরের বেনাপোল বাজারের ছোট আঁচড়া মোড়ে অবস্থিত ‘হাজী বিরিয়ানী হাউস’– এর খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়ে গ্রাহকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি মানহীন খাবার পরিবেশন করছে এবং অর্ডারের তুলনায় কম খাবার দিয়ে টাকা বেশি নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ছোট আচঁড়া মোড়ে অবস্থিত অন্যান্য বিরিয়ানী দোকান সহ বেনাপোলে সকল বিরিয়ানী দোকানের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে ৷ এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন থেকে নিরব ভূমিকা পালন করছে ৷ এ নিয়ে ভোক্তাদের মাঝে হতাশা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে৷

একাধিক ক্রেতা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে হাজি বিরিয়ানি হাউজের খাবারের স্বাদ ও গুণগত মান আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে—ফুড প্যাকেটে উল্লেখিত পরিমাণের চেয়ে কম খাবার দেওয়া হচ্ছে, যা অনেকেই প্রতারণা হিসেবে দেখছেন।

এ বিষয়ে বেনাপোল পৌরসভার ভবারবেড় গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শাহিন মিরাজ নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, প্যাকেট খুলে দেখি ভাত ও মাংসের পরিমাণ উল্লেখিত পরিমাণের চেয়ে অনেক কম। মানসম্মানের কথা চিন্তা করে অভিযোগ জানাতেও পারিনি।

অপর আরেক গ্রাহক জানান, আগে মান ভালো ছিল কিন্তু এখন মান কমে গেছে। দাম ঠিক রাখলেও খাবারের পরিমাণ কমে গেছে, যা হতাশাজনক। উল্লেখিত বিষয়টির সমাধান হওয়া জরুরি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি দিনে দিনে স্যঁতসেঁতে ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে যা থেকে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করেন ভোক্তারা।

বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন উঠলেও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে গ্রাহক ঠকিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দিনে দিনে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে।

এ বিষয়ে হাজি বিরিয়ানি হাউজের প্রোপাইটর আজিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি খাবারের মান ও পরিমাণে কম দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে খাবারে ফুড কালার মেশানোর বিষয়টি ভোক্তার ঘাড়ে চাপিয়ে স্বীকারোক্তি দেন। তিনি বলেন ক্রেতাদের কথা মতো খাবারে ফুড কালার মেশানো হয়। এখন প্রশ্ন হলো এমন কোন মানুষ আছে যারা জেনেশুনে কালার ফুডের মতো বিষাদ ফুড খেতে চাই।

বেনাপোল পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রাশিদা খাতুন বলেন, খাবারের মান, নিরাপত্তা ও পরিমাণে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে অভিযোগ জানানো উচিত। বিষয়টি নিয়ে তদারকি করা হবে। সঠিক তদারকি করলে এ ধরনের অভিযোগ কমে আসবে। তবে এর আগেও হাজি বিরিয়ানি হাউজে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে সতর্ক করেছি। এমন চলতে থাকলে এবং অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্রাহকদের অভিযোগের কারণে বিষয়টি দীর্ঘদিন পরে আলোচনায় এসেছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।

Loading