বাউল কবিদের মুখে মুখে রচিত ভাষা আন্দোলনের গান ; মেলেনি স্বীকৃতি নিউজ৭১অনলাইন নিউজ৭১অনলাইন প্রকাশিত: ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৫ ১৯৫২ খ্রি. ২১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক ও লেখক আব্দুল গাফফার চৌধুরী “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি “এই গানটি রচনা করেন এবং ১৯৫৪ খ্রি. এই দিনের প্রভাত ফেরিতে প্রথম এই গানটি গাওয়া হয়। এই গানটিতে প্রথম সুরারোপ করেন সুরকার আব্দুল লতিফ এবং পরে প্রখ্যাত সুরকার আলতাফ মাহমুদ। এই গানটি বিবিসি শ্রোতা জরিপে বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ গানের তালিকায় তৃতীয়। এই গানটি তখন দেশের শহরের শিক্ষিত বাঙালির মনে মাতৃভাষার সংগ্রামের প্রতি তীব্রভাবে আলোরণ তৈরি করেছিল। এমনকি এই সময় সাধারণ মানুষের মনে ভাষার প্রতি তৈরি করেছিল এক জাদুকরি টান। তবে দেশের মূলধারার বাউল কবিদের চেতনাকেও যে এই বাংলা ভাষার দাবি গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল – তা আমাদের অনেকেরই অজানা। অথচ জাতিসত্তার এই জাগরনের মুহূর্তে বাংলার শিক্ষিত, স্বশিক্ষিত বাউল কবি শিল্পী গান সেই সময় কালের বুকে এঁকে দিয়েছিলেন মাতৃভাষার এবং দেশপ্রেমের গভীর ছাপ। সেদিনকার সেইসব কাহিনী এখন গল্পের চেয়েও বিস্ময়কর। মানিকগঞ্জের সাধক শাহিন শাহ ও সাইদুর রহমান, কুষ্টিয়ার মকছেন আলী সাঁই, চট্টগ্রামের আব্দুল গফুর হালি, ফরিদপুরের আব্দুর রহমান বয়াতি, সিলেটের শাহ আব্দুল করিম ও বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোণার আব্দুল মজিদ তালুকদার। তাদের মাঝে সম্ভবত আব্দুল মজিদ তালুকদার এক ধাপ এগিয়েছিলেন। কারণ “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই ” এই দাবি নিয়ে তিনি যে গান রচনা করেছিলেন তা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবির শুরুর দিকে অর্থাৎ ১৯৫২ -এর রক্তস্নাত অগ্নিঝরা দিনগুলোর শুরুর দিকে। অল ইন্ডিয়া রেডিও, পাকিস্তান বেতার, বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম শিল্পী আব্দুল মজিদ তালুকদার সেখানে তিনি আমাদের সাধারণ বাউল কবি ও শিল্পীদের (১৮৯৮-১৯৮৮) চেয়ে ছিলেন একটু ব্যতিক্রম। লোকশিল্পী আব্দুল মজিদ তালুকদার তখন লিখেছিলেন এবং গেয়েছিলেন _বাংলা চাই বাংলা চাই বাংলা চাই, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, মায়ের ভাষা বাংলা চাই।। ভাষার জন্য যদি মোদের দিতে হয় গো প্রাণ – প্রাণ দিয়ে বাঁচাবো বাংলা ভাষার মান। শুনবো না আর কারো মানা – বুক ফুলিয়ে বলে যাই।। বাংলা ভাষা ছাড়া মোরা আর কিছু চাই না, মাতৃভাষা বাংলা হবে করি বর্ণনা। মোদের দাবি প্রাণের দাবি, একটা দাবি সবার ভাই।। যারা মোদের মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায় – ওরা মোদের বড় শত্রু লুটেপুটে খায়। শুনবো নাকো ওদের কথা লও রুখে দাঁড়াই।। কিন্তু ভাষা সৈনিক হিসেবে অনেকের নাম আমরা শুনি। কিন্তু আব্দুল মজিদসহ লোক শিল্পীরা আজও কোনো স্বীকৃতি পাননি। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে বাংলা একাডেমি গঠনের পর , তাঁর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী, বাংলা একাডেমির একজন সদস্য হিসেবে এবং বাংলা একাডেমির একজন লোক সংগ্রাহক হিসেবে আজও আমরা তাঁকে প্রাপ্য সম্মান দেইনি ।লেখক – অধ্যক্ষ মো: গোলাম মোস্তফা, সংগ্রহ ও সম্পাদক মজিদগীতি সমগ্র। অধ্যক্ষ, রাজুর বাজার কলেজিয়েট স্কুল, নেত্রকোনা শেয়ার অতিথি কলামবিষয়: