কৃষি পণ্যের সেকাল একাল: অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি – অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা

প্রকাশিত: ১১:৩৯ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ১৪, ২০২৪

আমার গ্রামের বাড়ির পাশে একটি গ্রাম্য বাজারের কথা বলছি। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত দেখেছি এই বাজারে প্রচুর শাকসবজি বিক্রি হত, শহর থেকে পাইকারি ক্রেতারা সবজি কিনে সাইকেলে করে, মাথায় নিয়ে এবং ভারে করে শাকসবজি এনে নেত্রকোণা শহরে বিক্রি করতো। গ্রামের কিছু লোক নিয়মিত সবজি এনে শহরে পাইকারি বিক্রি করতো। অর্থাৎ আশেপাশে গ্রামগুলোতে প্রচুর শাকসবজি ফলানো হতো, নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ফসল বাজারে বিক্রি করতো । অর্থনীতিভাব লাভবান হত, অন্যদিকে উৎপাদিত ফসল কমদামে কিনে সকলের আয়ের উপর চাপ কমাতো। কিন্তু বর্তমানে সেই গ্রামের বাজারে শহর থেকে ট্রাকে করে শাকসবজি নিয়ে বিক্রি করা হয়, শহরের এই সবজি আসে দেশের নানা স্থান থেকে পরিবহনের মাধ্যমে। ফলে স্বাভাবিকভাবে শাক সবজির দাম শহরের তুলনায় গ্রামে বাজারে আরো বেশি। বিষয়টা আমার নিজের অবজারভেশন। আবার গ্রামের এই বাজারে তখনকার সময় যে মানুষ আসতো তার তুলনায় এখন মানুষ সেটা আরো বেশি আসেন। সেই বাজারে আগের চারপাশটা চা এর দোকান ছিল। বর্তমানে সেখানে ৬০ থেকে ৭০ টি চায়ের দোকান। লোকজন সারাদিন দেশি-বিদেশে রাজনৈতিক চর্চা নিয়ে ব্যস্ত। রিকশা শ্রমিক থেকে শুরু করে সাধারণ লোক সারাদিন এই চায়ের দোকানগুলোতে আড্ডায় মত্ত থাকেন। তারা রাজনীতির এত নিখুঁত বিশ্লেষণ করেন যা একজন শিক্ষিত এবং রাজনৈতিক বিশেষক, গবেষকেও হার মানাবে। আর এদিকে দেশের ৮০% কৃষি উৎপাদন গ্রাম থেকে আসে। গ্রামের উদ্বৃত্ত ফসল শহরের চাহিদা মেটাতো। বর্তমানে দেশের কৃষি উৎপাদন এবং চাহিদার সাথে অনেকটা বেমানান। আগে গ্রামে প্রতিটি বাড়িতে নিজস্বভাবে হাঁস মুরগি পালন করা হতো। ডিম উৎপাদন করা হতো। এখানে পল্টি হাঁস মুরগি সে স্থান দখল করে নিয়েছি। জলাশয়ের মাছের পরিবর্তে পুকুরের মাছ বাজার দখল করে নিয়েছে। তখন গ্রামের শতকরা ৮০ জন লোক বাজার থেকে কিনতেন লবণ, কেরোসিন তৈলসহ সামান্য কিছু পণ্য। আর বাকি সবকিছু তারা নিজেরাই উৎপাদন করতেন। কিন্তু এখন বাজারে কৃষি পণ্য উৎপাদন কম, সরবরাহ কম; সবাই ক্রেতা। এলাকাভিত্তিক চাহিদা মিটানো যায় না। ১/২ শত মাইল দূর থেকে কৃষি পণ্য এনে আমাদের চাহিদা মিটানো হয়। মাঝে তৈরি হয় সিন্ডিকেট বা মধ্যস্বত্ত ভোগকারী ব্যক্তি। ফলে কৃষি পণ্যের দাম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। বিষয়টি নিয়ে আমাদের সকলেরই চিন্তা করা উচিত।
লেখক:
অধ্যক্ষ, রাজুর বাজার কলেজিয়েট স্কুল , নেত্রকোনা ।

Loading