খাগড়াছ‌ড়ি‌র রামগ‌ড়ে সরকা‌রি শিক্ষকদের মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন 

বাহার উদ্দিন বাহার উদ্দিন

রামগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:৪৪ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৪

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গেজেটেড কর্মকর্তাদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে খাগড়াছড়ির রামগড়ে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করে সরকা‌রি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে বুধবার(১৮ সে‌প্টেম্বর) রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফট‌কে রামগড় -বা‌রৈইয়ার হাট সড়‌কের পা‌শে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধ‌নে রামগড় সরকা‌রি উচ্চ বিদ‌্যাল‌য়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ অহিদুল হক নূরী ,সি‌নিয়র শিক্ষক মো. নূরুল হক গাজী,মো. আবদুল আউয়াল ,মো. হারুন অর রশীদ,মো. মহসীনুজ্জামান,মো. রাশেদুল ইসলামসহ সকল শিক্ষকরা অংশ নে‌ন।এ সময় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গেজেটেড কর্মকর্তাদের উপর প্রকল্প থেকে রাজস্বে আসা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং এ ঘটনার সা‌থে জ‌ড়িত দোষীদের বিরু‌দ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানান।

বাসমা‌শিস নেতারা আরও ব‌লেন,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা মূলত প্রকল্পের অংশ হিসেবে উপবৃত্তি কর্মকর্তা হিসেবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষে চাকুরি থেকে অব্যাহতির শর্তে যোগদান করে। পরে মানবিক বিবেচনায় তাদেরকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে রাজস্বভুক্ত করা হয়। কিন্তু, বিস্ময়কর ব্যাপার হলো তারা এখন তাদের জন্য বিধিমালা অনুসারে বরাদ্দকৃত পদের বাইরে গিয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদে পদায়ন চাচ্ছে যা পিএসসির মাধ্যমে এবং বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক এবং বিধিবহির্ভূত।
দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পর বিভিন্ন সুযোগসন্ধানী মহল দেশ‌কে অস্থিতিশীল করতে সচিবালয়সহ বিভিন্ন অফিসে গিয়ে অযৌক্তিক বিভিন্ন দাবিদাওয়া পেশ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাউশিতেও একাডেমিক সুপারভাইজার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারও অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত বিভিন্ন দাবী হিসেবে নিয়মিত হাজির হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। মঙ্গলবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসাররা নিজ নিজ অঞ্চলের উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসসমূহকে উন্মুক্ত রেখে মাউশিতে এসে দলবদ্ধভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়োগ চালিয়েছে এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্পর্কে অগ্রহণযোগ্য ও বিধিবহির্ভূত ব্যানার ও কুরু‌চিপুর্ন ভাষা ব্যবহার করেছে।খবর নিয়ে জানা গেছে তারা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারে অনুমতি ছ‌াড়াই এই কর্মসূচিতে যোগ দেন যা বি‌ধি সম্মত নয়। তাই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলাও চালানো হয় এবং ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়। এমনকি নারী শিক্ষকদেরও হেনস্তা করা হয়। এদের হাতে সরকারি স্কুল ও বেসরকারি স্কুলসমূহের সম্মানিত শিক্ষকরা যে নিরাপদ নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই, এরই প্রতিবাদ হিসেবে আমরা মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন কর‌ছি।

Loading