আযান কানে পৌচ্ছার পরেই” নামাজের জন্য ফাঁকা সবজি বাজার মোহাম্মদ মানিক হোসেন মোহাম্মদ মানিক হোসেন প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ৪, ২০২২ Exif_JPEG_420সবে মাত্র সূর্য ডুবছে, গ্রামের বাজারে টুকটাক বিক্রি শুরু হয়েছে। তখন যথা নিয়মে বাজারের মসজিদে মাগরিবের আযান শেষ।দোকানদার দোকান সাজিয়ে বাতি জ্বালিয়ে চললেন নামাজে। প্রতিটি দোকানে একই অবস্থা, ক্রেতা থাকলেও সে সময় দোকানে বসে নেই কোন বিক্রেতা। আযান শোনার পরেই ফাঁকা হয়েছে পুরো সবজি বাজার।এমন অভাবনীয় দৃশ্য আমাদের কাছে কল্পনা মনে হলেও দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের শান্তির বাজার থেকে শুক্রবার মাগরিবের সময়ে তোলা এমন একটি ছবি অল্প সময়ে দিনাজপুরে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সেখানে থাকা স্থানীয়রা এমন সবজি বাজারের দৃশ্য মোবাইলে ছবি তুলে ফেইসবুকে আপলোড করলে মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় সর্বত্র। নামাজের সময় বাজারের এমন দৃশ্য দেখে ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে ছবি গুলো দারুণ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. আরিফ হোসেন বলেন, মাগরিবের নামাজ পড়তে সেই সবজি বাজার হয়ে তার পাশের মসজিদে নিয়মিত নামাজ পড়তে যাই আমি। এমন দৃশ্য প্রতিদিনের হলেও হঠাৎ বিষয়টা আমার নজরে আসে এবং সেই মুহুর্তের কিছু ছবি ফেইসবুকে আপলোড করি। কিন্তু ভাবতে পারি নাই এত দ্রুত এভাবে ছবি গুলো ভাইরাল হবে।সবজি কিনতে আসা স্থানীয় একজন ক্রেতা আসাদুল্লাহ আল-গালিব বলেন, আমি সবজি কিনতে এই শান্তির বাজারে নিয়মিত আসি। কাঁচা বাজার কিনতে এসে প্রায় সময়ে মসজিদে মাগরিবের আযান হয়ে যায়। সে সময় আমি অনেক সময়ে খেয়াল করেছি এই সবজি বাজারে মাগরিবের নামাজের সময় ফাঁকা থাকে। বিক্রেতারা সবাই এক সাথে নামাজে যায়। তাই বাজারে ভিতরে আর কোন ক্রেতা প্রবেশ করেনা।ওই এলাকার ইউপি সদস্য আশিকুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এই বাজারটি অনেক ছোট । এখানে একটি ছোট দোতলা মসজিদ আছে।এই বাজারের অধিকাংশ মানুষ নামাজ পরে। আমার জানামতে সবজি বাজারের বিক্রেতারা সবাই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে। তাই মাগরিবের নামাজের সময় অল্প হওয়ায় নামাজের সময় ফাঁকা হয়ে যায় সবজি বাজারটি। কাঁচা বাজারের ভিতরে চা ব্যবসায়ি মোঃ আনিছুর রহমান জানান, নামাজের সময়ে আমিও দোকান খোলা রেখেই নামাজে যাই। সে সময় কোন বিক্রেতায় থাকে না।সবজি বিক্রেতা মো. হামিদুল ইসলাম,দুলাল ইসলাম ,সইদুল ইসলাম,মইনুদ্দিন ইসলামসহ আরো অনেকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, এ বাজারটি মসজিদের জায়গায় অবস্থিত। আমাদের প্রতিটি বিক্রেতাদের দোকানের ভাড়া মসজিদ কমিটিকে দেই। যা মসজিদ উন্নয়নের ব্যবহার করা হয়। নামাজ পড়ার কোন এখানে বাধ্যবাদকতা নেই। নিজে থেকেই সবাই আমরা নামাজ পড়ি। আর মাগরিবের ওয়াক্ত খুব অল্প সময়ে শেষ হয় বলে আমরা এক সাথে সবাই নামাজে যাই।সেখানকার মসজিদের ইমাম মো. আব্দুল লতিফের সাথে কথা হলে তিনি জানান, শান্তির বাজার একটি মসজিদ ভিত্তিক বাজার। তাই এখানে মোটামুটি সব ব্যবসায়ীরা নামাজ পরে। শেয়ার সারা দেশবিষয়: