বিদ্যুতের লোডশেডিং মরার ওপর খাঁড়ার ঘা নিউজ ৭১ অনলাইন নিউজ ৭১ অনলাইন প্রকাশিত: ৬:৩০ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ২১, ২০২২ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যেমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যস্ফীতির যাঁতাকলে জনজীবনে যখন নাভিশ্বাস উঠেছে তখন বিদ্যুতের লোডশেডিং এখন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে যুক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শুক্রবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে দেশের বিদুৎ খাত নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খুলনার সমাবেশে কোনো অঘটন হলে এর সম্পূর্ণ দায় সরকারকেই নিতে হবে।ফখরুল বলেন, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় এই সমাবেশকে কেন্দ্রে করে সরকার ইতোমধ্যে ত্রাসের রাজত্ব করেছে। তারা পথে পথে নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে সমাবেশে যেতে বাধা দিচ্ছে এবং তাদের গ্রেফতার করছে। তবে খুলনার সমাবেশে যেন বাধা সৃষ্টি করা না হয় তার জন্য আমি আহবান জানাচ্ছি। তা না হলে যদি কোনো রকম সমস্যা তৈরি হয় তাহলে প্রমানিত হবে যে, এই সরকার আসলে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, আমাদের সভা-সমাবেশ তারা করতে দিতে চায় না।ফখরুল বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় খুলনার যে বাসায় অবস্থান করছেন সেখানে পুলিশ রেইট করেছে এবং সেখান থেকে ১৯ নেতাকর্মীকে জনকে গ্রেফতার করেছে। এখনও খবর নিয়েছি পথে পথে যাকে যেখানে পাওয়া যাচ্ছে তাকে সেখানে গ্রেফতার করার জন্য। সরকারি দলের নেতারা রামদা, লাঠি-সোঠা ও অস্ত্র নিয়ে পথে পথে সো-ডাউন করেছে, মোটর সাইকেল নিয়ে বিভিন্নভাবে ত্রাস সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এই গ্রেফতার এবং ত্রাস সৃষ্টি করবার যে প্রচেষ্টা তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।বিএনপি মহাসচিব বলেন, খুলনার সমাবেশ উপলক্ষে শুক্রবার ও শনিবার গণপরিবহন ধর্মঘটের পেছনে সরকারের হাত রয়েছে। সকল গণপরিবহন তারা বন্ধ করে দিয়েছে। এ সরকার বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের যে জীবন-যাত্রা তাকে সম্পূর্ণ ভাবে পরিকল্পিতভাবে ব্যাহত করছে। এতে প্রমানিত হয় সরকার চায় না যে, মানুষ একটা গণতান্ত্রিক উপায়ে তাদের যে কথা, তাদের যে বক্তব্য, তাদের যে প্রতিবাদ সেটা প্রকাশ করুক। তারা একটা সংঘাতের দিকে চলে যাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে আমরা সরকারকে এই রাস্তা থেকে ফিরে এসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করার জন্য আহবান জানাচ্ছি।বর্তমান সরকার সরকার জনভীতি রোগে আক্রান্ত মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, এটা হচ্ছে তাদের পিপলস ফোবিয়া। তাই মানুষ দেখলেই ভয় পায়। ভয়ের একটাই কারণ, বিএনপির সমাবেশে মানুষ যদি বাড়তে থাকে তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে না। তাই বিএনপির সমাবেশে বাধা দিয়ে তারা দেশে একটা রেইন অব ট্রেরর সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। এটা তারা ময়মনসিংহে করেছিলো, চট্টগ্রামে করেছিলো। কিন্তু বাধা দিয়ে কিছুই করতে পারেনি। তারা জনগণকে বাদ দিয়ে নির্বাচনগুলো করতে চায়। আগের পদ্ধতিতে পদ্ধতিতে নির্বাচন করে আবারও ক্ষমতায় যেতে চায়। কিন্তু যখন গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হবে তখন জনগনের উত্তাল তরঙ্গে তাদের ভেসে যেতে হবে। অত্যন্ত ধিকৃত অবস্থায় ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে।সরকারের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণেই দেশে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি বলে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ৭৪ সালে দুর্ভিক্ষটা ছিলো মানবসৃষ্ট, মানুষদের দ্বারা তৈরি করা। তখন যারা ক্ষমতাসীন ছিলেন তাদের অব্যবস্থাপনা, তাদের দুর্নীতি, তাদের অযোগ্যতা ও অদক্ষতার কারণে সেই দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হয়েছিলো। আজকে সেই একই ঘটনা দেশে ঘটছে। এটা আমরা বার বার করে বলে আসছি। তিনি বলেন, আমাদের কৃষকদের প্রত্যেককে একটা করে সোনার মেডেল দেওয়া উচিত। তারা দিবারাত্র পরিশ্রম করে যে ফসল ফলায় তার জন্য দেশের মানুষ কোনো রকমের খেয়ে বেঁচে থাকে। সরকার মুখে বলে যে, আমরা খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে গেছি। আর অন্যদিকে লাখ লাখ টন খাদ্য বিদেশ থেকে আমদানি করছে।তিনি বলেন, সরকার প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারি যাদেরকে বাধ্যতামূলক অবসর দিচ্ছে অবশ্যই ন্যায় বিচার যেন পায় সে দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে আমরা ক্ষমতায় যেতে পারলে অবশ্যই সকলে যেন সমান বিচার পায় এটা দেখবো। ফখরুল বলেন, বিএনপি এক দশকধরে লাগাতারভাবে দেশের সঙ্কট পরিত্রাণের উপায় নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সভা-সেমিনার-সমাবেশ-বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে সরকারের লুটেরা নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। এদেশের মানুষের পক্ষে জ্বালানিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বর্তমানে চলমান আন্দোলনে ইতোমধ্যেই দলের ৫ জন নেতা আব্দুর রহিম, নুরে আলম, শাওন প্রধান,শহিদুল ইসলাম শাওন ও আলিম পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে বিএনপির শত শত নেতাকর্ম ও সমর্থক।গ্রেফতার হয়েছে হাজার হাজার। মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে বিএনপির শীর্ষ নেতা থেকে তৃণম‚ল নেতাকর্মী সমর্থক সকলেই ঐক্যবদ্ধ। রাজপথের আন্দোলন আজ জনসমুদ্রে পরিণত হচ্ছে। জনগণের অধিকার আদায়ের এই আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, এই দেশ কোনো একজন ব্যক্তি কিংবা দলের নয়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমনি এদেশের মানুষ সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, একইভাবে আজ সকলে মিলে তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে হঠিয়ে একটি নিরপেক্ষ তত্ত¡াবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করে সুষ্ঠু ও শান্তিপ‚র্ণ নির্বাচনের আয়োজন করে সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই আসুন সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই গণআন্দোলনে শরীক হই।ফখরুল বলেন, দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি খুবই খারাপ। যে কারণে ৪ অক্টোবর বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে প্রায় সারাদেশ ব্ল্যাকআউটের কবলে পড়ে। টানা ৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে দেশের ৬০ ভাগ এলাকা। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লাসহ দেশের ৩২টি জেলার মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, ব্যাহত হয় শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা সেবা, টেলিযোগাযোগ, নেট-ওয়ার্কিং এবং ব্যাংকের লেনদেনসহ জরুরি সেবা। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বরে মাঝারি গ্রিড বিপর্যয়ের ফলে কুষ্টিয়া ও যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা গুলোতে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিলো না।তাছাড়া ২০১৭ সালের ৩ মে এবং ২০১৪ সালের নভেম্বরে জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়ের কবলে পড়ে। ২০১৪ সালে সারাদেশে টানা ১০ ঘন্টা বিদ্যুৎ ছিল না। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডকে বলা হয় বিদ্যুতের মহাসড়ক- যার মাধ্যমে সারাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে এ ধরণের বিপর্যয়ের ঘটনা বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা হিসাবেই বিবেচিত হয়।ফখরুল বলেন, সর্বশেষ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর প্রায় ২ সপ্তাহ পার হলেও এখনো সুনির্দিষ্ট কোন কারণ জানানো হয়নি। এই অদক্ষ সরকারের পরিকল্পনাহীনতা, অপরিনামদর্শিতা ও জবাবদিহিহীনতার কারণেই এ খাতে কর্মরতরা উদাসীনতা দেখাতে পারছে। তবে পিজিসিবির কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াইতো মুখ্য নয়। তাই লোক দেখানো গল্প-কথার প্রতিবেদন নয়। জাতি জানতে চায় কেন এই বিপর্যয় ঘটলো এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের বিপর্যয় এড়াবার রোড-ম্যাপ কি।মির্জা ফখরুল বলেন, বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের সময় উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ নেট-ওয়ার্ক ও গ্রাহক সংযোগ- এই চারটি মৌলিক স্তরের সুসমন্বয় করা হয়নি। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণের মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি। ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন যেখানে মাত্র ৬৯ ভাগ ও ১৪০ বেড়েছে, সেখানে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে ৪১৭ ভাগ। উৎপাদন পরিকল্পনায় পরিনামদর্শিতার অভাবে মহাপরিকল্পনাটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র- ২০২০ সালের ডিসেম্বরে উৎপাদনে গেলেও সঞ্চালন লাইনের নির্মাণ শেষ না হওয়ায় কেন্দ্রটি সক্ষমতার অর্ধেক উৎপাদন করছে। কিন্তু কোন বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে কেন্দ্রটিকে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করা হয়েছে।বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা দুর্ভাগ্য যে সরকার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে যতোটা আগ্রহী, সঞ্চালন লাইন সংস্কার ও আধুনিকায়নে ততটাই নিষ্ক্রিয় থেকেছে। সঞ্চালন লাইন দুর্বল, লোড ব্যবস্থাপনাও আধুনিকায়ন করা হয়নি। ফলে বারবার গ্রিড বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। এনালগ পদ্ধতির লোড ব্যবস্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ করছে জাতীয় গ্রিডকে।২০১৪ সালের অভিজ্ঞতা থেকে কোন শিক্ষা নেয়নি সরকার। অতীব গুরুত্বপূর্ণ ন্যাশনাল লোড ডিসপাস সেন্টারের অটোমেশান এবং কারিগরি সমন্বয়ের বিষয়টি উপেক্ষিতই থেকেছে। আর এবার লোডশেডিং করতে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ গ্রিড স্মার্ট নয়। অটোমেশান না করে সেখানেও চুরি এবং অপরিণামদর্শী কাজ হয়েছে। গ্রিড সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে গ্রিডের কোন একটি লাইন আকস্মিক বন্ধ হয়ে গেলে সেই পরিমাণ সরবরাহ যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি করা যায় তার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।ফখরুল বলেন, উন্নত বিশ্বে গ্রিডে সমস্যা হলে তা নিয়ন্ত্রণে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশেও গ্রিড ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন অত্যাবশ্যক। আমরা জানি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা একটি ডায়নামিক সিস্টেম, জীবন্ত একটি ব্যবস্থা। কিন্তু আওয়ামী লীগের ১৪ বছরে প্রাথমিক জ্বালানি পরিকল্পনা ঠিক না করে, সঞ্চালন, বিতরণ না বাড়িয়ে বা যথাযথ পরিকল্পনা না করে সমন্বয়হীন উৎপাদন বাড়ানোর নামে অর্থ লোপাটের মহা আয়োজন করা হয়েছে।চলমান অর্থবছরেও বিদ্যুৎ উৎপাদন কাজের জন্য বরাদ্দকৃত ৬০ ভাগ এর বিপরীতে বিতরণে মাত্র ২০ভাগ বরাদ্দ করা হয়েছে। সবুজ বিদ্যুতেরও কোন পরিকল্পনা করা হয়নি। পদ্মা-মেঘনা- যমুনা নদী বিধৌত আঞ্চলিক ভৌগলিক বিভাজনকে মাথায় রেখে সঞ্চালন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। উৎপাদন ও লোড অনুসারে সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধি না করলে দক্ষিণবঙ্গের পায়রা, চট্টগ্রামের মাতারবাড়ি, উত্তরবঙ্গের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্য কেন্দ্রগুলোর সুফল জনগণ পাবে না।ফখরুল বলেন, বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, ঘোড়াশাল গ্রিডের কোনো এক লাইন ট্রিপ করায় অন্য লাইন ওভারলোড হয়ে ধারাবাহিক ট্রিপের কারণে বিদ্যুৎ এবারের বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছে। ঘোড়াশাল কেন্দ্রটিতে ফুল লোড দিতে গেলে এ সমস্যার সূত্রপাত- এ কথাটি সত্য হলে প্রশ্ন হলো, এ কেন্দ্রটিতো নতুন। এই চীনা কেন্দ্রটি চালু করার আগে ফুল লোড টেস্ট করা হয়েছে কিনা পিডিবিকে তা স্পষ্ট করতে হবে। তিনি বলেন, জানা যায়, লো ফ্রিকোয়েন্সি সমস্যা সমাধানে প্রকৌশলীরা বেসরকারি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে সচলের নির্দেশ দিলেও এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনোটাকেই উৎপাদনে আনা যায়নি। যে কারণে গ্রিড পুনঃসচল করতে প্রকৌশলীদের অনেক দেরি হয়েছে।বিএনপি মহাসচিব বলেন, বেসরকারি বিদ্যুৎ খাতে বিগত এক যুগে অন্তত ৯০ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জের ভর্তুকির জোয়ার বইয়ে দেয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এসব কেন্দ্রের সক্ষমতা আদৌ পরীক্ষিত এবং প্রমাণিত কি না? এসকল কেন্দ্রকে উৎপাদনে আনয়ন সম্ভব হয়নি, কেননা প্রকৃতপক্ষে এদের উৎপাদন সক্ষমতাই নেই। অভিযোগ রয়েছে দেশে বেসরকারি পর্যায়ে স্থাপিত রেন্টাল, কুইক রেন্টাল ও দীর্ঘমেয়াদের কিছু আইপিপি কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি, বিশেষকরে জেনারেটরগুলো মানসম্পন্ন নয়। এছাড়া রেন্টাল, কুইক রেন্টাল কেন্দ্রগুলো বেজ লোডকেন্দ্র হিসেবে স্থাপন করা হয়নি। এসব কেন্দ্রের কারণেও গ্রিড ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।ফখরুল বলেন, সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে বহু বেসরকারি ভাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র মিথ্যা সক্ষমতার বিপরীতে অলস থেকে রাষ্ট্রের বাজেট বরাদ্দ হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব কেন্দ্রের অনেকগুলো উৎপাদনে যেতেই অক্ষম। মালিকেরা সরকারের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে আঁতাত করে দুর্বৃত্তপ্রক্রিয়ায় ভাড়াভিত্তিক ভুয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা দেখাচ্ছেন, যা দেশের স্বাভাবিক ও জরুরি প্রয়োজনে কোনোই কাজে আসছে না। তাই দেশে গত কয়েক মাস যাবৎ জনগনের প্রধান আলোচিত বিষয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সঙ্কট এবং এর ফলে সৃষ্ট সীমাহীন জনদুর্ভোগ। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যেমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যস্ফীতির যাঁতাকলে জনজীবনে যখন নাভিশ্বাস উঠেছে, তার সঙ্গে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিং।প্রাথমিকভাবে ১ ঘন্টা দিয়ে শুরু হয়ে এখন তা এখন কোন কোন এলাকায় ১২ ঘন্টারও অধিক। সে সময় বলা হয়েছিল লোডশেডিংটা সাময়িক, অক্টোবর থেকে আর থাকবে না। কিন্তু অক্টোবর মাসে এসে দেখা যাচ্ছে, পরিস্থিতির উন্নতি তো হয়ইনি, উল্টো কোথাও কোথাও তা অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত যেখানে দিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে, এখন তা বেড়ে আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত হয়েছে।আরইবি দেশে ৫৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। তারাও অতিরিক্ত লোডশেডিং চালাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং এর ব্যাপ্তি অনেক বেশি। অনেকেই বলছেন বিদ্যুৎ কখন আসে, সেটাই এখন প্রশ্ন। এর ফলে জনজীবনে দুর্ভোগের চেয়েও বড় কথা কৃষি ও শিল্প খাতের দুর্যোগের কারণে অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি। সরকার লোডশেডিং কমার জন্য প্রকৃতির উপর ভরসা করে বসে আছে কখন শীত আসবে। অথচ শীতকালে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুতের চাহিদা কমে আসবে। তাতে সরকারের কোন কৃতিত্ব নয় তা হবে প্রকৃতির আশীর্বাদ। এদিকে মন্দার কারণে প্রবাসী আয় কমলে ডলার সঙ্কট আরও বাড়বে। তাই শীত এলেই বিদ্যুতের সঙ্কট চলে যাবে সেটা নিশ্চিত করে বলা যায়না। কিন্তু কিছুটা সহনীয় হতে পারে।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসুর মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। শেয়ার রাজনীতিবিষয়: