পাচার চক্রের হামলার শিকার ৩ সাংবাদিক

প্রকাশিত: ৬:৩১ অপরাহ্ণ , মে ৯, ২০২২

কক্সবাজারে অবৈধ উপায়ে হাঙরের তেল, চামড়া ও কান পাচার চক্র নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় তিন সংবাদকর্মী। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর থানায় তিনজনের নামোল্লেখ করে ও আরও তিন-চারজন অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার সকালে জেলা শহরের নুনিয়াছড়ায় হাঙরের তেল তৈরির কারখানার ভিডিও চিত্রধারণ ও সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কক্সবাজারের স্থানীয় অনলাইন গণমাধ্যম দ্য টেরিটোরিয়্যাল নিউজের (টিটিএন) প্রধান প্রতিবেদক আজিম নিহাদ, প্রতিবেদক রাহুল মহাজন ও ক্যামেরাপার্সন লোকমান হাকিমের ওপর তেড়ে এসে হামলা চালায় পাচার চক্রের মূলহোতা মোহাম্মদ আলমগীরের ছোটভাই মোস্তাক আহমেদ।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, অভিযুক্ত মোস্তাক হামলার শিকার সাংবাদিক নিহাদের গলা চেপে ধরেন, ক্যামেরা কেড়ে নিতে চড়াও হন ক্যামেরাপার্সন লোকমানের ওপর।

এ সময় মোস্তাককে চিৎকার দিয়ে অকথ্য ভাষায় অশোভন আচরণ করতে দেখা যায়। ভিডিওতে ‘সারা বাংলাদেশ কিছু করতে পারেনি, তোরা কী করতে পারবি?’- বলতে শোনা যায় মোস্তাককে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও সাংবাদিক নেতারা ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক পৌঁছলে নিহাদসহ অন্যদের উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

সাংবাদিক আজিম নিহাদ জানান, ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের সংশোধিত ৩৯ ধারা অনুযায়ী বিপন্ন সামুদ্রিক প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত হাঙর আহরণ এবং বাজারজাত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আইন না মেনে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা থেকে অবৈধভাবে হাঙর সংগ্রহ করে একটি প্রভাবশালী চক্র হাঙরের বিভিন্ন অংশ এবং বিশেষ কায়দায় উৎপাদিত তেল বিদেশে চড়ামূল্যে পাচার করে আসছিল। ওই চক্রের তথ্য পেয়ে সচিত্র প্রতিবেদন তৈরির কাজ করছিলেন সাংবাদিক নিহাদ।

তিনি বলেন, হাঙরের তেল তৈরির কারখানা যে এলাকায় অবস্থিত সেই এলাকার দৃশ্য ধারণ করতে গিয়েছি। এ সময় আমি ও আমার সহকর্মীদের মারধর করে চক্রের প্রধান আলমগীরের ছোটভাই। আমি মাথায় ও গলায় আঘাত পেয়েছি, ডাক্তার সিটিস্ক্যান করাতে বলেছেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় রোববার এজাহার পাওয়ামাত্রই আমরা মামলা নথিভুক্ত করেছি। আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অভিযুক্তদের বিচার দাবিতে সোমবার বিকাল ৩টায় কক্সবাজার পৌরসভার সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে কক্সবাজারে কর্মরত সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন, জাতীয় খেলাঘর আসরসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন।