হুমায়ূনকে নিয়ে ভুল চর্চা না হোক

প্রকাশিত: ২:১২ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ১৩, ২০২১

নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭৩তম জন্মদিন শনিবার। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ দিনটি উপযাপন করছে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। গাজীপুরের পিরুজালী নুহাশপল্লীতে কেককাটাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

শনিবার সকাল থেকেই হুমায়ূন ভক্তরা গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে আসেন। ভক্তদের পাশাপাশি তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ছেলে নিশাত ও নিনিত, প্রকাশকসহ তার স্বজনরা অনুষ্ঠানে যোগদেন।

নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুরের পিরুজালী নুহাশল্লীতে রাত ১২টা ১ মিনিটে ১০৭৩টি মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়।

সকালে লেখকের পরিবার, নুহাশপল্লীর স্টাফ, ভক্ত পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিতিতে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা করা হয়।

পরে লেখকের ম্যুরালের সামনে কেক কাটা হয়। হুমায়ূন ভক্ত ও পাঠকরা ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আজীবন লেখককে স্মরণ করে যাবেন বলে জানান।

মেহের আফরোজ শাওন বলেন, নতুন প্রজন্ম বিশেষ করে এই পেন্ডামিককালে হুমায়ূন আহমেদের লেখা পাঠ করছেন এবং তাঁর লেখার মধ্যদিয়ে তিনি আজীবন বেঁচে থাকবেন। তাঁর লেখা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। গবেষণায় যেন কোন ভুল তথ্য উপস্থাপন না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান শাওন।

হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, “সব সময়ে আপনারা জিজ্ঞাসা করেন প্রত্যাশার কথা। হুমায়ূনহীন ১০ বার জন্মদিন। প্রত্যেকবার প্রত্যাশার কথা বলেছি, সড়কের সড়কের নামের কথা বলি। আসলে এগুলো তো আশার কথা। আশা এবং স্বপ্নই নিয়েই তো আমরা সবাই বেঁচে থাকি। কিন্তু এবার আমি কোন প্রত্যাশার কথা বলবো না। বলবো যে, কোন প্রত্যাশাই নেই।”

“আমি বলবো যে, যারা হুমায়ূন আহমেদকে ভালোবাসেন, হুমায়ূনকে নিয়ে কাজ করতে চান অনেকেই। তবে যা-ইচ্ছা তাই করবেন না, খুব অনুরোধ করছি। গত ১০ বছর ধরে এই জিনিসটা আমার কাছে খারাপ লেগেছে যে, হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে কাজ করবার চেষ্টা বা হুমায়ূনকে নিয়ে হঠাৎ করে একটা সিনেমা বানিয়ে ফেলা বা একটি বই লিখে ফেলা।”

মেহের আফরোজ শাওন বলেন, “হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে অনেকেই ভালোমতো গবেষণা করছেন, বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে পিএইচডি হচ্ছে, হুমায়ূন সাহিত্য নিয়ে অনেকেই চর্চা করছেন। সেই চর্চাটা বাড়ুক, ছাত্ররা হুমায়ূন সম্পর্কে জানুক এবং সবাই জানুক।”

সবশেষে তিনি বলেন, “তবে ভুল কোন চর্চা না হোক- এটা আমার অনেক বড় প্রত্যাশা। কারণ হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের সম্পদ। সেই সম্পদটা ভালো মতো চর্চা হোক।”

বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন।