নেতাকর্মীদের অন্তত ৩টি করে গাছ লাগানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

প্রকাশিত: ১১:৪৩ অপরাহ্ণ , জুন ১৫, ২০২০

আওয়ামী লীগসহ এর সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে অন্তত তিনটি করে গাছ লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন দলটির সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে দেশবাসীকেও অন্তত তিনটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

আজ ১৫ জুন ২০২০ রোজ সোমবা বিকেলে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কৃষক লীগ আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সহ এর সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সারা বাংলাদেশে আমাদের বৃক্ষরোপণ করতে হবে। আমাদের যেখানে যত নেতা-কর্মী আছে মূল দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে সঙ্গে সব সহযোগী সংগঠন; প্রত্যেক সংগঠনের প্রতিটি সদস্য তিনটি করে গাছ লাগাবে। সেটা তার নিজের জায়গায় হোক অথবা নিজের জায়গা না পেলে আমি মনে করি যেখানেই হোক, রাস্তার পাশে হলেও গাছ লাগাতেই হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, এখানে উদ্বোধন করলে হবে না কে কয়টা গাছ লাগালো এবার সেটাও দেখতে চাই।

নেতাকর্মী ছাড়াও দেশবাসীকে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটা নেতা-কর্মী এবং দেশবাসীকে আজকের দিনে আহ্বান জানাচ্ছি- পহেলা আষাঢ় আসুন সবাই মিলে গাছ লাগাই। গাছ লাগিয়ে দেশের পরিবেশ রক্ষা করি। আবার নিজেরা লাভবান হই, কারণ গাছ বিক্রির টাকা আপনাদেরই সংসারে কাজে দেবে। আসুন মুজিববর্ষে আমরা সবাই মিলে বৃক্ষরোপণ করে আমাদের দেশকে রক্ষা করি। দেশের পরিবেশ রক্ষা করি, আর মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করি। বেশি করে ফলগাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ব্যাপকভাবে ফলের গাছ লাগোনো দরকার। কারণ পুষ্টির যোগান ফল থেকে আসে।

উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজ বেষ্টনী গড়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সবুজ বেষ্টনী গড়তে হবে। যেগুলো মাটি ধরে রাখে, যেমন আমাদের ঝাউ গাছ, খেজুর গাছ, তালগাছ এগুলো আমাদের বিভিন্ন ভাবে লাগানো দরকার। এই ব-দ্বীপটাকে (বাংলাদেশ) বাঁচাতে হলে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।

গাছের যত্ন নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছ লাগানোর পর গাছের কিন্তু পরিচর্যা করতে হবে। গাছ লালনপালন করতে হয়। নিজের সন্তানকে যেমন লালনপালন করতে হয়, একটা গাছ লাগালে তাকেও কিন্তু যত্ন করতে হবে, লালনপালন করতে হবে। তাহলে তো সে ফল দেবে। আমি ফল খাবো কিন্তু যত্ন করবো না এটা তো হয় না। আমি মনে করি সবাই গাছের যত্ন করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কৃষি গবেষণায় আওয়ামী লীগই সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর কষি গবেষণার জন্য কোনো বরাদ্দ নেই দেখে সেখানে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়।

করোনাভাইরাস সঙ্কটে সরকারের দেওয়া ১৯ প্রকারের প্রণোদনা প্যাকেজের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেখানে কৃষির জন্য আমরা আলাদাভাবে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। আমাদের কৃষকরা মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারে। তাদের আমরা কষি উপকরণ কার্ড দিয়েছি। ভর্তুকির টাকাটা তাদের হাতে সরাসরি চলে যায়। এবারও আমরা ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা শুধু কৃষি ভর্তুকির জন্য আলাদা করে রেখেছি। কারণ পেটে খেলে পিঠে সয়।

করোনাভাইরাস মহামারীতে সারাবিশ্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা জানিয়ে বাংলাদেশে যেন খাদ্যের অভাব না হয় সেজন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার বাজেটে আপনারা দেখেছেন, শুধু কৃষির জন্য আমরা বিশেষভাবে বরাদ্দ রেখেছি। ২২ শতাংশ বরাদ্দ শুধু এই কৃষিখাতে আমরা রেখে দিয়েছি।

কৃষি ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারে জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণটাকে আমরা আরও উৎসাহিত করতে চাই। বাইরে থেকে কিনে নিয়ে আসব না। আমাদের মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি আছে, ডিজেল প্ল্যান্ট আছে, সেখানেও কিন্ত আমরা এই কৃষি য়ন্ত্রগুলো এ্যাসেম্বল করতে পারি। কিছু পার্ট এখানে তৈরি করতে পারি। এজন্য গবেষণা করে করে কোন ধরনের কী দরকার, সেটা বের করা আমাদের প্রয়োজন।এজন্য এবার আমরা ৩ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা কিন্তু বরাদ্দ রেখেছি কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমরা চাচ্ছি আমাদেরও প্রতিটি ক্ষেত্রে একটা আধুনিক, বিজ্ঞানসম্মত,উন্নত একটা প্রযুক্তির ব্যবহার। তাহলে আমাদের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। আর আমাদের আর যেন কখনও খাবারের জন্য মানুষের কাছে হাত পাততে না হয় বা দেশের মানুষ যেন খাদ্যের অভাবে কষ্ট না পায়।

উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে গাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে কৃষকলীগ, যারা বেশি গাছ লাগাবে তাদের পুরস্কৃত করার কথা ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরস্কার দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কৃষক লীগের ফান্ডে অর্থ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

গণভবন প্রান্তে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ।

ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সংযুক্ত হন কৃষক লীগের নেতারা। উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি, এ্যাড. শামীমা শাহরিয়ার এমপি, বেগম রোমানা আলী তুসি এমপি। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কৃষক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, কৃষক লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা নুরে আলম সিদ্দিকী হক, কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইট, অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম পানু, আবুল হোসেন, রেজাউল হক রেজা, আজম খান, রানা আফসারী, হাবিবুর রহমান এবং ঢাকা মহানগর-উত্তর, কৃষক লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মাকসুদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হালিম খান এবং ঢাকা মহানগর-দক্ষিন কৃষক লীগের নেতৃবৃন্দ।