ওসি মোশারফের অভিনব উদ্যোগ শ্বশুর শাশুড়ির সেবা করলে পুত্রবধুর হাতে পৌঁছে যাবে উপহার

প্রকাশিত: ১০:৪২ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১

মেহেদী হাসান চৌধুরী টাঙ্গাইল :
শ্বশুর শাশুড়ির সেবা করলেই উপহার পৌছে দিচ্ছেন টাঙ্গাইলের এক পুলিশ
কর্মকর্তা। এমন ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছেন টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন। তিনি নিজে গিয়ে উপহার
পৌছে দিচ্ছেন।
উপহারের মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ী, পোড়াবাড়ির চমচম ও ক্রেস্ট।
সেই সাথে পরিবারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
টাঙ্গাইল সদর থানায় প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে একটি ফেস্টুন। সেটিতে
লেখা ছিলো ‘বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক বাবা-মায়ের নিরাপদ আবাস’।
পুত্রবধূ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তার শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমত করে আল্লাহ
তাকে আখিরাতে পুরস্কার প্রদান করবেন। সেখানে আরও লেখা ছিলো শুশ্বর
শাশুড়িকে যে সেবা যত্ন করবে এবং একসাথে বসবাস করবে সেই
ভাগ্যবতিকে পুরস্কৃত করা হবে এবং যোগাযোগের জন্য ফোন নাম্বার
উল্লেখ্য করা ছিলো।
মাহমুদা আক্তার নামের এক নারী জানান, তিনি পুরস্কার পেয়েছেন। পুরস্কার
পেয়ে নিজের প্রতি আরও আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে। তিনি তার শ্বশুর
শাশুড়িকে সেবাযত্ন করেন। ভবিষ্যতেও একই রকম তাদের সেবা করে যাবেন।
মাহমুদার শ্বশুর কাজী মুজিবুর রহমান বলেন, আমার মেয়ে আমাকে যেমন
ভালোবাসে, আমার ছেলের বউও ঠিক তেমনি ভালোবাসে। আমাদের দেখভাল ও
সেবাযত্নে কোন ত্রুটি করে না। এমন ছেলের বউ পেয়ে আমরা সত্যিই
ভাগ্যবান।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন বলেন, আমার ছেলে ও ছেলের বৌ আমাদের
সাধ্য অনুযারি সেবা করে। একজন পুলিশ অফিসার আমার বৌমাকে
পুরস্কৃত করেছেন। পুরস্কার পেয়ে সে তো আত্মহারা।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন
জানান, তিনি লক্ষ্য করেছেন বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের অবহেলায় বাবা ও মা
অযত্নে জীবন যাবন করেন। অনেকেই ঠিকমত খাবারও দেয় না। আর্থিক
অবস্থা ভালো সন্তানেরা বাবা-মাকে ছেড়ে বউ বাচ্চা নিয়ে আলাদা বসবাস
করেন। অনেক সন্তানরাই ভুলে যায় এই বাবা-মা দিনরাত পরিশ্রম করে এই
সন্তানের মুখে আহার তুলে দেন এবং উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেন। তারা এও
ভুলে যায় তাদের একদিন বৃদ্ধ হতে হবে। আমার উদ্দেশ্য ওই পুত্রবধূদের উৎসাহিত
করা।

 

 


তিনি আরও জানান, যারা বাবা মাকে ছেড়ে দুরে চলে যায় এবং অনেকের
একাধিক সন্তান থাকার কারনে বাবা-মাকে ভরনপুসন নিয়ে ঠেলাঠেলি করে
দুরে সরিয়ে দেয়। সেই সব সন্তান ও পুত্রবধূর প্রতি প্রতিবাদ স্বরূপ এই
আয়োজন করেছি। যাতে কোন বাবা-মাকে অবহেলা ও বৃদ্ধাশ্রমে যেতে না হয় |