কোন পরিবার গৃহহীন থাকবে না

প্রকাশিত: ৪:১৯ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ৩১, ২০২০

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, সারা দেশে ৯ লাখ গৃহহীন পরিবারকে গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে এসব পরিবারের তালিকা প্রণয়ন করে পর্যায়ক্রমে তাদের গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হবে। এই কাজ শেষ হষে হলে দেশে কোন পরিবার আর গৃহহীন থাকবে না। 

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের শুধু বিজয়ই উপহার দেননি, দেশের মেহনতি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের মাধ্যমে সুখী সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন। আমাদের সংবিধানে সংযোজিত দেশের সকল মানুষের গৃহ নির্মাণসহ পাঁচটি মৌলিক চাহিদা পূরণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। ৭১’র পরাজিত শক্তিরা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে রুখে দিতে চেয়েছিল। তিনি বেঁচে থাকলে অনেক আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হতো।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিমন্ত্রী পলক সিংড়া উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকায় মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বাড়ি নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন।

নির্মিতব্য বাড়ির সুফলভোগী গৃহপরিচারিকা চায়না খাতুনের কাছে গেলে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ভূমিহীন ও গৃহহীন চায়না খাতুন নতুন বাড়ি পাওয়ার আনন্দে কেঁদে ফেলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘নামাজ পড়ে শেখ হাসিনার জন্যে দোয়া করবো প্রাণখুলে।’একইভাবে আবেগআপ্লুত হন সুফলভোগী ট্রলি ড্রাইভার সোহেল রানার স্ত্রী জাহেরা।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ করতে কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পূণর্বাসিত করার কার্যক্রম শুরু করেছেন। পর্যায়ক্রমে দেশের ৯ লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। মুজিব শতবর্ষে সারাদেশে এক হাজার ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৫ হাজার ৭২৬টি গৃহ নির্মাণ কাজ এখন শেষের পথে, আগামী ১৫ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এসব গৃহ হস্তান্তর করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে উন্নত অনেক দেশের অর্থনীতি বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বে শুধু করোনা সংকটই নয়, একই সাথে বন্যা পরিস্থিতিও মোকাবেলা করা হয়েছে। বর্তমানে আমাদের অর্থনীতি অনেক সমৃদ্ধ। আশা করা হচ্ছে, আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত অর্থনীতির ২৫টি দেশের একটি হবে।’

নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, ‘সরকারের নির্দেশিত নীতিমালার আলোকে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে সুফলভোগীদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।’

জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন-আল-ওয়াদুদ জানান, ‘মুজিব শতবর্ষে জেলায় প্রায় দশ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৫৫৮টি বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে সকল বাড়ি নির্মাণ কাজ শেষ হলে জমিসহ উপকারভোগীদের হাতে বাড়ির চাবি হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। ’

নির্মাণাধীন এসব গৃহ পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী মাঝগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। জেলা প্রশাসক মো, শাহরিয়াজের সভাপতিত্বে এক হাজার ৪০০ শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী পলক। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।