বিনম্র শ্রদ্ধায় মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুকে স্মরণ করলো চট্টগ্রামের মানুষ

প্রকাশিত: ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ , নভেম্বর ৫, ২০২০

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, বীর মুক্তিযুদ্ধা, বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও সফল ব্যবসায়ী মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর আজ ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের ৪ নভেম্বর এই রাজনীতিক ও সাবেক সংসদ সদস্য ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী একই আসন থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন।

মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় আজ (০৪ নভেম্বর) চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন স্মৃতিচারণ সভার আয়োজন করে। এ উপলক্ষে সকালে তাঁর নির্বাচনী এলাকা আনোয়ারায় মরহুমের কবরে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও আপামর জনতা।

বিকেলে নগরের প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণসভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব ‍উল আলম হানিফ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রোয়ালখালী আসনের এমপি মোছলেম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মরহুমের পুত্র ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এর প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বক্তব্য রাখেন। এসময় চট্টগ্রাম মহিলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্মরণসভায় মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন, বীর চট্টলার বীর সন্তান ছিলেন মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক এ প্রেসিডিয়াম সদস্য ৭৫ এর পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি শুধু চট্টগ্রামেরই নেতা নন, বাংলাদেশের নেতা। তাঁর তুলনা তিঁনি নিজেই। জনাব হানিফ বলেন, এ প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। রাজনীতির উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ করা-এ চেতনা ও আদর্শ মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন থেকে শিখতে হবে।

মরহুমের পুত্র ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ছেলে হিসেবে পিতার স্মৃতিচারণ তাঁর জন্য কষ্টের। তিনি বলেন, তাঁর বাবা শুধু বাবাই নন, তাঁর জন্য বটবৃক্ষ। তাঁর চলায়-বলায় বাবার আদর্শ অনুসরণ করেন। তিনি আরো বলেন, তাঁর বাবার রাজনীতির আদর্শ ধারণ করেই তিনি রাজনীতি করেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী ছিলেন তাঁর বাবা সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সহযোদ্ধা। এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে ছিল তাঁর সখ্য। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী রাজনীতির পুরোধা মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী ছিলেন জাতির জনকের ঘনিষ্ঠ সহচর। রাজনীতির কঠিন মুহুর্তে ধৈর্য ধারণ করার মত শক্তি ও মনোবল ছিল তাঁর অটুট।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রোয়ালখালী আসনের এমপি মোছলেম উদ্দিন বলেন, মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রামের একজন শিল্পপতি। তিনি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও সাধারণ মানুষের সাথে তাঁর মেলা-মেশা বেশি ছিল। ’৭৫ এর পর মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরীকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস বলা যায় না। তিনি নিজের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে রাজনীতি করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।