ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা মামলা

সোর্সসহ বাঁশতৈল ফাঁড়ির পুলিশ কনস্টেবলের কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ২, ২০২০

এক ব্যক্তির পকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে আটকের চেষ্টার অভিযোগে সখিপুর থানা পুলিশের দায়ের করা মামলায় এক পুলিশ কনস্টেবল এবং পুলিশের এক সোর্সের কারাদণ্ড হয়েছে। টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুপন কুমার দাশ মঙ্গলবার এই রায় দেন।
দন্ডিতদের মধ্যে মির্জাপুরের বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল রাসেলুজ্জামান ওরফে রাসেলকে দেড় বছর এবং তাদের সোর্স হাসান মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল কোর্ট পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. তানবির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।দন্ডিত রাসেলুজ্জামান ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মোজাটি চরপাড়া গ্রামের মো. আক্তারুজ্জামানের ছেলে। হাসান মিয়া মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল নয়াপাড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে। রায় ঘোষনার পর তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় একজন উপসহকারি পুলিশ পরিদর্শক, তিন কনস্টেবল ও অপর এক সোর্সকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
খালাস প্রাপ্তরা হচ্ছেন, বাঁশতৈল ফাঁড়ির সাবেক উপসহকারি পরিদর্শক (এএসআই) রিয়াজুল ইসলাম, কনস্টেবল গোপাল চন্দ্র সাহা, তোজাম্মেল হক ও আব্দুল হালিম এবং সোর্স আল আমিন।

মামলার বিবরণে প্রকাশ, দন্ডিত কনস্টেবল রাসেলুজ্জামান ও সোর্স হাসান মিয়াসহ মির্জাপুর থানার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির আরো চার পুলিশ সদস্য এবং আরো এক সোর্স গত ২৮ নভেম্বর (২০১৯) পাশ্ববর্তী সখীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় যান। তারা ওই এলাকার বজলুর রহমান নামে এক দিনমজুরের পকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে জোর করে সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় তোলেন। বজলুরের চিৎকারে আশে পাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে অটো রিক্সাটি আটক করে। বজলুরের কাছ থেকে ঘটনা বিবরণ শুনে উপস্থিত লোকজন পুলিশ ও সোর্সদের তল্লাশি করে কিছু ইয়াবা পান। এতে সাধারণ মানুষ বিক্ষুদ্ধ হয়ে পুলিশ ও সোর্সদের পিটুনি দিয়ে একটি দোকানে আটকে রাখেন। পরে খবর পেয়ে সখীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। এর আগেই তিনজন কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে চারজনকে পুলিশ সখীপুর থানায় নিয়ে যায়। সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আয়নুল হক বাদি হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক ওমর ফারুক গত ২ জানুয়ারি ২০২০ আদালতে পাঁচ পুলিশ সদস্য ও দুই সোর্সসহ সাত আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত মামলার আটজন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এই দন্ডাদেশ দেন।