বিপিসি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিবের বিরুদ্ধে মন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ নিউজ ৭১ অনলাইন নিউজ ৭১ অনলাইন প্রকাশিত: ১১:১৬ অপরাহ্ণ , মার্চ ৫, ২০২৬ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মো. আহম্মদুল্লাহ্-এর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার–প্রকল্পে কমিশন, ব্যাংক আমানত ব্যবস্থাপনায় অনিয়মসহ শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।এসব অভিযোগ তুলে গত ১ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-এর মন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-এ উপ-ব্যবস্থাপক পদে যোগ দেন মো. আহম্মদুল্লাহ্। তার নিয়োগ নিয়েও শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিপিসির সাবেক চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান-এর ঘনিষ্ঠতার সূত্রে তিনি চাকরি পান। জানা যায়, সামছুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্র ধরে বিপিসিতে প্রবেশের সুযোগ পান তিনি।অভিযোগে আরও বলা হয়, ঝালকাঠি জেলার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে বিপিসিতে চাকরি নেন। চাকরির আবেদনপত্রে আওয়ামী লীগের প্রত্যয়নপত্রও জমা দেন, যেখানে তাকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।বিপিসিতে যোগদানের পর দ্রুত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন আহম্মদুল্লাহ্। পরবর্তীতে তিনি বিপিসি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব (পিএস) পদে দায়িত্ব নেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই পদে বহাল থেকে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে একক প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, বিপিসি চেয়ারম্যানের পিএস পদে বসে তিনি নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করেছেন। একই সঙ্গে টেন্ডার বাণিজ্য, বিভিন্ন প্রকল্পে কমিশন গ্রহণ এবং বিভিন্ন কোম্পানি থেকে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজধানীর মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, জমি এবং গ্রামের বাড়িতে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে তার। এছাড়া তার নামে একাধিক রেস্টুরেন্ট ব্যবসা, কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর এবং বিভিন্ন ব্যাংকে বিনিয়োগ রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নামেও বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে।বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর তাকে পিএস পদ থেকে সরিয়ে চট্টগ্রামের প্রধান কার্যালয়ের হিসাব বিভাগে বদলি করলেও পরদিনই সেই আদেশ বাতিল হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়েই তিনি আবার স্বপদে ফিরে আসেন।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পরপর বদলি হওয়ার কথা থাকলেও সাত বছরের বেশি সময় ধরে তিনি একই পদে রয়েছেন। বিপিসির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের জন্য বরাদ্দ সরকারি গাড়িও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া নিজের প্রভাব বলয় শক্ত করতে তিনি বরিশাল অঞ্চলের বহু কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বিপিসির গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিপিসির ঢাকা লিয়াজোঁ অফিস, রেস্ট হাউস ও বিভিন্ন ডিপোতেও তার ঘনিষ্ঠদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন ডিপো ও কোম্পানি থেকে মাসোহারা আদায়, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেন, এমনকি তদন্ত রিপোর্ট প্রভাবিত করার মতো অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।এছাড়া বিটুমিন, ক্রুড অয়েল ও ডিজেল আমদানির অনুমোদন পাইয়ে দিতে বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে। বিপিসির ব্যাংক আমানত ব্যবস্থাপনায়ও অনিয়ম করে পছন্দের ব্যাংকে বিপুল অর্থ জমা রাখার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিপিসির বিভিন্ন প্রকল্প—যেমন এসপিএম প্রকল্প, ঢাকা–চট্টগ্রাম পাইপলাইন প্রকল্প এবং ইন্ডিয়া–বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্প থেকেও কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, বিপিসির ব্যাংক হিসাবের এফডিআর ও এসএনডি হিসাবে পছন্দের ব্যাংকগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে বিপুল অর্থ জমা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে একটি শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের সূত্রে তাদের ব্যাংকগুলোতে বিপিসির প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে, যা এখনো উত্তোলন করা যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. আহম্মদুল্লাহ্-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শেয়ার অন্যান্যবিষয়: