১৬৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি: বেনাপোলে আমদানিকারকদের অনীহার মূলে কি রিপন দাসের মতো অসাধু চক্র? স্টাফ রিপোর্ট স্টাফ রিপোর্ট যশোর প্রকাশিত: ১১:৩৪ অপরাহ্ণ , মার্চ ১০, ২০২৬ দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত বেনাপোল স্থলবন্দর এখন এক গভীর সংকটের মুখে। এক সময় যেখানে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি থাকত, সেখানে এখন শ্মশানের নীরবতা। আমদানিকারকরা এই বন্দর ছেড়ে এখন পার্শ্ববর্তী ভোমরা স্থলবন্দরের দিকে ঝুঁকছেন। গতকালের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভোমরা দিয়ে ৩২২ ট্রাক পণ্য আমদানি হলেও বেনাপোলে তা মাত্র ৩০৮ ট্রাকে নেমে এসেছে।এই পতনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে কাস্টমসের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া দুর্নীতি। বিশেষ করে এমএলএসএস রিপন দাসের সরাসরি ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও ।সম্প্রতি একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বেনাপোল কাস্টমসের এমএলএসএস রিপন দাস প্রকাশ্যেই আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা লেনদেন করছেন। অভিযোগ উঠেছে, রিপন দাসের মতো ছোট পদের কর্মচারীরা আসলে এক বিশাল সিন্ডিকেটের কলেকশন এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। তাদের চাহিদা মতো ঘুষ না দিলে পণ্য শুল্কায়নে ফাইল আটকে দেওয়া, ভুল এইচএস কোড দেখিয়ে জরিমানা করা এবং অহেতুক পণ্য খালাসে দেরি করানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের।দুর্নীতির এই সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই বেনাপোল কাস্টমস হাউসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৬৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমরা ব্যবসা করতে আসি, হয়রানি হতে নয়। বেনাপোলে পদে পদে যে পরিমাণ টেবিল মানি দিতে হয়, তাতে ব্যবসায় টিকে থাকা দায়। তাই বাধ্য হয়ে আমরা ভোমরা বা অন্য বন্দর বেছে নিচ্ছি।এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বেনাপোলে অভিযান চালালেও রিপন দাসের মতো অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য কমেনি। আইনের তোয়াক্কা না করেই চলছে এই অপকর্ম। বন্দরের এই স্থবিরতায় বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার বন্দর শ্রমিক। পণ্য খালাস কমে যাওয়ায় তাদের চুলায় ঠিকমতো হাঁড়ি চড়ছে না।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বলেন, রিপন দাসের মতো কর্মচারীরা যখন সরাসরি ঘুষ নিতে সাহস পান, তখন বুঝতে হবে তাদের পেছনে বড় কোনো ছায়া আছে। এই সিন্ডিকেট না ভাঙলে বেনাপোল বন্দর তার গৌরব আর ফিরে পাবে না।সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে। এখন প্রশ্ন উঠছে প্রশাসন কি রিপন দাসের মতো এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে, নাকি বেনাপোল বন্দরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হবে? শেয়ার অন্যান্যবিষয়: