বন্দর নগরী বেনাপোলে শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ১০:২২ অপরাহ্ণ , মে ১, ২০২৫
Oplus_131072

মহান মে’ দিবস আজ। শ্রমিকের আত্মত্যাগে অর্জিত দিবসটি আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক দিন আজ। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে এ দিবস পালিত হচ্ছে। শ্রমিকদেরকে উজ্জীবীত করতে এবারের প্রতিপাদ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে “শ্রমিক-মালিক এক হয়ে, গড়বো এদেশ নতুন করে”। ১৮৮৬ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের ‘হে মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ওইদিন তাদের জীবন দানের মধ্যদিয়ে শ্রমিক শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। শ্রমিকদের দৈনিক কাজের সময় নেমে আসে ৮ ঘণ্টায়। অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এ দিনকে তখন থেকেই সারা বিশ্বে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত-নিহত শ্রমিকদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এবারের মহান মে দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানমালা সাজানো হয়েছে।

মহান মে’ দিবস-২০২৫’র পাশাপাশি এ বছর একই দিনে ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস’হিসেবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর ২৮ এপ্রিল জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস পালিত হয়ে আসছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে মে’ দিবস পালিত হচ্ছে। পরিবর্তিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার মে’ দিবসের প্রতিপাদ্যও সেভাবেই নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, শ্রমিক সমাবেশ, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি। মহান মে’ দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো দিনটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান ও টকশো সম্প্রচার করবে।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার(১লা মে) দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে এক বিশাল শ্রমিক র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩নং গেট সম্মুখস্ত শ্রমিক ইউনিয়ন সংগঠন-৮৯১ এবং ৯২৫ এর অফিস কার্যালয় প্রাঙ্গণ হতে যৌথভাবে র‍্যালি টি বের করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সংগঠন দুটি’র নেতা-নেতৃবৃন্দ। বন্দরের শ্রমিক ছাড়াও অত্র এলাকার বিভিন্ন কলকারখানার হাজার হাজার শ্রমিক এই র‍্যালি তে অংশ নেন। র‍্যালি টি বেনাপোল বন্দর হয়ে বেনাপোল পৌর বাজার এলাকা সহ প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে পুণরায় শ্রমিক কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

র‍্যালি শেষে আলোচনা সভায় অংশ নেন শ্রমিক সহ নেতা-নেতৃবৃন্দ। শ্রমিক ইউনিয়ন-৮৯১ ও ৯২৫’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ঐ সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন-৮৯১’র সভাপতি-মো. মাকসুদুর রহমান রিন্টু। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মো.নুরুজ্জাজামান লিটন(সাধারণ সম্পাদক, শার্শা উপজেলা বিএনপি)। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-মো. আবু তাহের ভারত(সাধারণ সম্পাদক, বেনাপোল পৌর বিএনপি)।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মো.নাসিমুল গনি বল্টু(সহ-সভাপতি, বেনাপোল পৌর বিএনপি),
মো. মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম(আহবায়ক, শার্শা উপজেলা যুবদল), মো.লিটন হোসেন(সাধারণ সম্পাদক,৮৯১),মো. আক্তারুজ্জামান আক্তার(সাংগঠনিক সম্পাদক, বেনাপোল পৌর বিএনপি),মো.শহিদুল ইসলাম শহিদ(যুগ্ম-আহবায়ক, শাশা উপজেলা যুবদল), মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবু(আহবায়ক, বেনাপোল পৌর যুবদল),মো.আমিরুল হক(আহবায়ক,শার্শা উপজেলা কৃষকদল),মো.শরিফুল ইসলাম চয়ন(আহবায়ক,শার্শা উপজেলা ছাত্রদল),মো.আরিফুল ইসলাম আরিফ(আহবায়ক,বেনাপোল পৌর ছাত্রদল),ইশতিয়াক আহম্মেদ শাওন(সদস্য সচিব,বেনাপোল পৌর ছাত্রদল),মো.মোহাইমিনুল সাগর(সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক,শার্শা উপজেলা ছাত্রদল),রায়হানুজ্জামান দিপু(সদস্য সচিব,বেনাপোল পৌর যুবদল),ডা.ইদ্রিস আলী(সহ:সভাপতি,বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপি ও ৯২৫’র সহ: সাংগঠনিক সম্পাদক),তবিবুর রহমান তবি(শ্রম সম্পাদক,বেনাপোল পৌর বিএনপি ও ৯২৫’র সভাপতি) সহ শার্শা ও বেনাপোল বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভায় মে’ দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং স্থলবন্দর সহ অত্র এলাকার সকল মিল,কলকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যাদি উত্থাপিত হয়। বিশেষ করে বেনাপোল স্থলবন্দরের শ্রমিকরা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে বন্দরের অভ্যন্তরে বোমাবাজি ঘটিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের উপর দোষ চাপিয়ে জেল জরিমানা,নির্যাতন,নীপিড়নের স্বীকার হতে হয়েছে,এখন তা হয় না বলে দু’হাত তুলে শ্রমিকগণ সেই কথা স্বীকার করেন। এ ছাড়াও সাধারণ শ্রমিকরা আ.লীগের আমলে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেতন পেতেন,বর্তমানে ৯২৫’র সহিদ আলী
সাধারণ সম্পাদক পদে আসিন হওয়ার পর থেকে বন্দরের শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫ এবং ৮৯১ এর সকল শ্রমিক প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা বেতন পান বলে শ্রমিকরা হাত তুলে স্বীকার করেন। বর্তমানে শ্রমিকরা সুখে শান্তিতে আছেন বলে শ্রমিকরা দু’হাত তুলে স্বীকার করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা বলেন, কোনো কারখানা কর্তৃপক্ষ মে’ দিবসে কারখানা খোলা রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যৌক্তিক কারণ এবং শ্রম আইনের প্রতিপালন ছাড়া কোনো শ্রমিককে চাকরিচ্যুত/ছাঁটাই করা যাবে না। শ্রমিককে চাকরিচ্যুত/ছাঁটাই করার আগে সংশ্লিষ্টদের ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে। শ্রম আইন মেনে শ্রমিককে চাকরিচ্যুত/ছাঁটাই করা না হলে মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শ্রমিকদের রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শ্রমিক ও শ্রমের মর্যাদা সম্মানের সঙ্গে বিশ্বময় স্বীকৃতি লাভ করেছে। এটি শুধু একটি সাধারণ দিবস নয়, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামের অনুপ্রেরণার উৎস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার ঐতিহাসিক এ দিনে যাদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে শ্রমিক অধিকার স্বীকৃতি পেয়েছে তাদেরসহ দেশের সব মেহনতি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান।

শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্কের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে মে দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ‘শ্রমিক ও মালিক পরস্পরের পরিপূরক, আর তাদের যৌথ প্রচেষ্টাই একটি শক্তিশালী, আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা হয়। এ দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হলে ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আস্থার পরিবেশ সুদৃঢ় করতে হবে। আমরা যদি ঐক্য ও সহযোগিতার ধারা অব্যাহত রাখি, তাহলে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন শুধু স্বপ্ন নয়, বাস্তব হয়ে উঠবে।

যৌথভাবে বেনাপোলে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপি মে’ দিবসের সকল কর্মসূচি’র সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা ও আলোচনা সভা সঞ্চালন করেন-বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫’র সাধারণ সম্পাদক- মোঃ সহিদ আলী।

Loading