কালিহাতী উপজেলার নির্বাহী অফিসার পান্তা দিয়ে ইফতার করা সেই বাড়িতে গিয়ে আর্থিক সহায়তা প্রধান করলেন খায়রুল ইসলাম

প্রকাশিত: ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ , মার্চ ৩১, ২০২৫

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সল্লা চরপাড়া গ্রামের অসহায় পরিবারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কালিহাতি উপজেলার নির্বাহী অফিসার খায়রুল ইসলাম। আর্থিক অভাবের কারণে পরিবারটির সদ্স্যরা প্রতিনিয়ত পন্তাভাত দিয়ে তাদের ক্ষুদা নিবারণ ও ইফতার করতো।

উপজেলার সল্লা চরপাড়া গ্রামে রকিবুল ও লিলি বেগম দম্পত্তি এভাবেই কষ্টের সাথে জীবনযাপন করে আসছেন অনেক দিন ধরে। তাদের পরিবারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম রকিবুল ইসলাম অসুস্থতার কারণে পঙ্গু হয়ে পরেন। এসময় বিভিন্ন এলাকায় অসহায় দুস্ত পরিবারের মাঝে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

শনিবার (২৯ মার্চ) রাতে সল্লা চরপাড়া গ্রামের রকিবুল ও লিলি বেগম দম্পত্তি বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী, ঈদ উপহার ও নগদ অর্থ প্রদান করেন তিনি। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র, অসহায় ও প্রতিবন্ধী ও রাস্তার পাশে বসবাস করা ১৫-১৬ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী ও ঈদ উপহার তুলে দেন।

এছড়া মহাসড়কের যানজট কমাতে এবং মানুষের যাত্রাকে নিরাপদ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ঢাকা- টাঙ্গাইল- যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে রাত ৯ -২ টা পর্যন্ত নিরলস ভাবে কালিহাতীর বিভিন্ন অংশে পরিদর্শন করেন।

সল্লা চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রকিবুল ইসলাম দুই বছর বয়সে অসুস্থ হয়ে তার এক পা পঙ্গু হয়ে যায়। এরপর গলায় রাখা গামছায় আগুন লেগে পুড়ে যায় গলা। দরিদ্রতার কারণে চিকিৎসা করাতে না পারায় রকিবুল বড় হলে এভাবেই কাজ করে সংসার চালাতে থাকেন। বসে থাকার কাজ ছাড়া অন্য কাজ করতে না পারায় সবেই কাজের মুজুরি ৫০০টাকা পেলেও রকিবুল পান ২০০ টাকা। স্বাভাবিক কাজ করতে না পারায় তাকে কাজেও নিতে চায় না কেউ। তাই চুক্তিতে কাজ নিয়ে স্ত্রী অথবা ছেলেকে সাথে নিয়ে কাজ করেন তিনি। দুই ছেলে থাকলেও কিছুটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাদেরও কাজে নিতে চায় না কেউ। অভাবের তারনায় অতিকষ্টে দিন যাপন করেন এই পরিবার। সরকারি তহবিল থেকে ও সমাজের বিত্তবানদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, উপজেলার সল্লা চরপাড়া গ্রামের পঙ্গু রকিবুল ও লিলি বেগম দম্পত্তির অবস্থার খবর শুনে পরে রাতে তার বাড়িতে এসে খাদ্য সামগ্রী, ঈদ উপহার ও নগদ অর্থ প্রদান করেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বিত্তবান কয়েকজন ব্যক্তিরাও তাকে সহযোগিতা করেছেন বলে জানা যায়।
এসময় তিনি আরো জানান, ‘পরবর্তীতে জীবিকা নির্বাহের জন্য রকিবুলকে একটি দোকান দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা হবে।’

Loading