বুলবুল আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ , জুলাই ১৫, ২০২০

তিনি ছিলেন মহানায়ক। ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইন্ডাস্ট্রিতে এই উপাধি একজনেরই। যিনি অভিনেতা বুলবুল আহমেদ। সুদর্শন, সুশিক্ষিত, মার্জিত, রুচিশীল এই অভিনেতা অভিনয় গুণে পৌঁছাতে পেরেছিলেন সব শ্রেণির দর্শকের অন্তরে। ঢাকাই সিনেমাতেও এনেছিলেন নতুন এক মাত্রা। মৌলিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করাটা ছিলো তার তৃপ্তির জায়গা। আজ ১৫ জুলাই দেশীয় চলচ্চিত্রের এই ‘মহানায়ক’র মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১০ সালের আজকের এই দিনে তিনি পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। মৃত্যুর এতো বছর পরে আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের অন্তরে অমর হয়ে আছেন তিনি। 

প্রয়াত এই অভিনেতার স্মৃতি ধরে রাখতে তার পরিবার ও বুলবুল আহমেদ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে গুণী শিল্পীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছর এই ‘মহানায়ক বুলবুল আহমেদ স্মৃতি সম্মাননা ২০২০’ পেলেন প্রবীণ অভিনেত্রী মিরানা জামান। করোনার কারণে মৃত্যুবার্ষিকীর আগেই গত শুক্রবার তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বুলবুল আহমেদের মেয়ে ঐন্দ্রিলা আহমেদ বলেন, ‘যারা আমাদের সংস্কৃতির জন্য অনেক করেছেন, কিন্তু এখন বয়স হয়ে যাওয়ার কারণে কিছু করতে পারেন না, তাদের স্মরণ করেই প্রতিবছর বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে সম্মাননা জানাই। মিরানা জামানের মতো গুণী মানুষকে সম্মাননা দিতে পেরে আমাদের ভালো লেগেছে। এবার করোনার জন্য বড় করে তেমন কোনো আয়োজন সম্ভব হয়নি। চতুর্থবারের মতো এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। মিরানা জামানের বাসায় গিয়ে সম্মাননা পদকটি তার হাতে তুলে দিয়েছি।’

উল্লেখ্য, বুলবুল আহমেদের জন্ম ১৯৪১ সালে পুরান ঢাকায়। তার আসল নাম তাবারক আহমেদ। আদর করে তার বাবা-মা বুলবুল বলে ডাকতেন। দাম্পত্য জীবনে বুলবুল আহমেদের স্ত্রী ডেইজি আহমেদ। এই দম্পতির তিন সন্তান হলেন- মেয়ে ঐন্দ্রিলা ও তিলোত্তমা এবং ছেলে শুভ। দারুণ মেধাবী ছিলেন বুলবুল। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার কলেজিয়েট স্কুল, নটর ডেম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পড়াশোনা শেষ করার পর তৎকালীন ইউবিএল ব্যাংক টিএসসি শাখার ম্যানেজার হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেন তিনি।

চাকরির পাশাপাশি বুলবুল আহমেদ টিভিতে অভিনয় শুরু করেন। বুলবুল আহমেদ অভিনীত প্রথম টিভি নাটক ছিলো আবদুল্লাহ আল মামুনের পরিচালনায় ‘বরফ গলা নদী’। এটি ১৯৬৪ সালে বিটিভিতে প্রচারিত হয়। বুলবুল আহমেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকগুলো হচ্ছে- মালঞ্চ, ইডিয়েট, মাল্যদান, বড়দিদি, আরেক ফাল্গুন, শেষ বিকেলের মেয়ে। ধারাবাহিক ও খন্ড নাটক মিলিয়ে প্রায় চার শতাধিক নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত সর্বশেষ টিভি নাটক ছিল ২০০৯ সালে শুটিং করা ‘বাবার বাড়ি’।

১৯৭৩ সালে আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমামের (ইউসুফ জহির) ‘ইয়ে করে বিয়ে’র মাধ্যমে প্রথম সিনেমায় অভিনয় শুরু করেন। এর পরের বছর আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘অঙ্গীকার’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। দুটি সিনেমা দিয়েই তিনি বাজিমাত করেন। তবে বুলবুল আহমেদ ঢাকাই সিনেমার দর্শকের কাছে চিরদিন শ্রদ্ধেয় হয়ে থাকবেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি দুই চরিত্র ‘শ্রীকান্ত’ ও ‘দেবদাস’- এ দুর্দান্ত রূপদান করে। ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ ও ‘দেবদাস’-এই দুটি চলচ্চিত্র দিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন সকল শ্রেণির দর্শকের অন্তরে।

এছাড়াও ‘মহানায়ক’, ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘সূর্য্য কন্যা’ সিনেমাগুলোতে বুলবুল আহমেদ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন অনন্য উচ্চতায়। বুলবুল আহমেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- ধীরে বহে মেঘনা, জীবন নিয়ে জুয়া, রূপালী সৈকতে, বধূ বিদায়, জন্ম থেকে জ্বলছি, দি ফাদার প্রভৃতি। বুলবুল আহমেদ অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ছিলো ‘দুই নয়নের আলো’।