নগরীর কোরবানীর পশুর হাট সংক্রমণমুক্ত রাখতে হবে-মেয়র নাছির

প্রকাশিত: ৮:১৭ অপরাহ্ণ , জুলাই ১৩, ২০২০

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, পবিত্র ঈদ-উল-আযহায় মুসলমানদের দুটি মূল ওয়াজিব হলো ঈদের নামাজ ও আল্লাহর উদ্দেশ্যে সামর্থবানদের পশু কোরবানী দেওয়া। এবার করোনা মহামারির ছোবলের মধ্যেই কোরবানী আসায় তা ধর্মীয় গাম্ভীর্য ও আনুষ্ঠানিকতা রক্ষায় সীমিত ও নিয়ন্ত্রণমূলক বিধি-ব্যবস্থা মেনে পালিত হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে নগরীতে কোরবানীর পশুর হাট সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা দূরিভূত করায়। তাই নগরীতে পশুর হাট লোকসমাগম নিয়ন্ত্রণসহ শুধু নির্দিষ্ট স্থানে পশু বাঁধার খুঁটি, ছাউনি, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও জীবাণুনাশক সামগ্রী বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট দোকান, আইনশৃংখলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের ক্যাম্প ছাড়া আর কোন ধরনের দোকানপাট বা স্থাপনা থাকবে না।

আজ সকালে টাইগারপাস্থ চসিক নগরভবনের সম্মেলন কক্ষে পশুরহাট ইজারাদারদের সাথে বৈঠকে সিটি মেয়র এসব কথা বলেন।

সভায় জানানো হয় কোন বয়স্ক ব্যক্তি এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু-কিশোররা পশুর হাটে আসতে পারবেন না । পশু ক্রেতার সাথে সর্বোচ্চ দুই জনের বেশি যাওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন যে, পশুর হাটগুলোতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে যা যা করণীয় সেগুলো যথাযথভাবে পালন করবে। এসময় তিনি আরো জানান যে, পশুর হাটে জীবাণু নাশক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা থাকবে।

এসময় মেয়র ইজারাদারগণ ও বিক্রেতাদেরকে ক্রেতাদের হাত ধোয়ার পানি, সাবান ও টিস্যু পেপার সরবরাহ, অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতসহ হাটে প্রবেশমূখে ও শরীরের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, চসিকের পক্ষ থেকে পশুর রোগ-বালাই চিহ্নিত করার জন্য হাটগুলোতে চিকিৎসক থাকবেন। পশুর গোসল ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় পানির ব্যবস্থা, খাবার ও আবর্জনার জন্য নির্ধারিত স্থান থাকবে। তিনি ক্রেতা-বিক্রেতার স্মরণ করিয়ে দেন যে, সরকার, প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য নিরাপত্তাবান্ধব পশুর হাট বসানোর সামগ্রিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতা বিক্রেতাদের যে আবশ্যিক দায়িত্বগুলো রয়েছে তাও অবশ্যই পালন করতে হবে।

সিটি মেয়র তার বক্তব্যে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বসাশিত ও বেসরকারি সংস্থার চাকুরেদের বেতন-ভাতা-বোনাস আগে-ভাগে প্রদান করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। প্রায় ক্ষেত্রেই ঈদের দু-একদিন আগেই চাকুরেদের বেতন-ভাতা-বোনাস দেয়া হতো এর ফলে শেষের দিকে পশুর হাটগুলোতে ভিড় উপচে পড়ে এবং বিক্রেতারাও ক্রেতাদের বেতন-বোনাস না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। তাই পশুরহাটে শেষের দিকে উপচে পড়া ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত। এবার যাতে সেধরণের অবস্থার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য তিনি সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সভার প্রারম্ভে জনসচেতনতা ও পশুর হাটের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করেন চুয়েটের ছাত্রী তাসফিয়া তাজনিম ও অর্ক।

এসময় কাউন্সিলর এ এফ এম কবির মানিক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, এস্টেট অফিসার এখলাস উদ্দিন আহমদ, ইজারাদারের পক্ষে ছিলেন, মোহাম্মদ সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ মামুন, মোহাম্মদ ওয়াহিদুল আলম চৌধুরী, মোহাম্মদ আজাদ, নজরুল ইসলাম মিন্টু, মোহাম্মদ জামসেদ, মোহাম্মদ ফারুক বাবুর্চি, আবদুর রশিদ লোকমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।