আসুন আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে জানার চেষ্টা করি

প্রকাশিত: ১:৪৫ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১
ড. অধ্যাপক ফকরুল আলম

আমার জীবনের অন্যতম ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেখে যাওয়া তিন কারাগার-আখ্যানের অনুবাদের জন্য আমার মনোনীত হবার ঘটনাটি। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা এবং আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন বিরোধীদলের নেত্রী ছিলেন, তখনই উনার অনুরোধে ২০০৬ সালে আমি প্রথম পাণ্ডুলিপির কাজ শুরু করেছিলাম। এরপর সময়ে সময়ে বেশ অনেকবার তার সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। খুব অবাক হই, নতুনভাবে তাকে আবিষ্কার করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে। মুগ্ধ হই তার ব্যক্তিত্বেও। আর এমনও ব্যক্তিত্বের মুখোমুখি হওয়া, আমার গোটা জীবনের অনবদ্য স্মৃতিচিহ্ন।

উনার সাথে কাজ করতে গিয়ে আমি উপলব্ধি করেছি, একজন কন্যা হিসেবে কতটা অনন্য তিনি এবং পিতার পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ এবং তার জীবন এবং সময়কালকে আমাদের সকলের নিকট বোধগম্য করার ব্যাপারে তিনি কতটা আবেগপ্রবণ এবং নিষ্ঠাবান। ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত প্রত্যেকের সাথে তার যত্নশীল এবং সহানুভূতিশীল আচরণ আমাকে বিস্মিত করেছে। বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের সেইসব কাহিনী- ইংরেজি এবং বাংলা লেখাগুলো প্রস্তুত করতে তার নৈকট্য লাভ এবং স্নেহপূর্ণ আচরণে আমরা একপ্রকার ঘরোয়া আবহ খুঁজে পাই। তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি কিনা প্রতিটি ছোটখাটো খুঁটিনাটি বিষয়ে গুরুত্ব দেন, তার পিতার বই অনুবাদের তত্ত্বাবধান করা থেকে শুরু করে, তার সাথে কাজ করা প্রতিটি ব্যক্তির দেখাশোনা ব্যাপারে তিনি ছিলেন বেশ মনোযোগী।

আমি যখন তার পিতার আখ্যান পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা অনুবাদ করছিলাম, তখন উনার সাথে সপ্তাহের পর সপ্তাহ কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়। এক একটি পাতা অনুবাদ করছিলাম, আর দেখছিলাম, বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবিই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছিল শেখ হাসিনার মধ্যে। ঠিক বাবার মতো তিনি নিজেকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলছিলেন। আন্তরিকতার কোনো কমতি ছিল না তার মধ্যে। প্রত্যেককেই যাতে তার সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে- বাবার মতো বার বার এমন চেষ্টাই করেছেন তিনি। পুরো বইটি প্রস্তুত করতে আমাদের সবার জন্য সর্বোত্তম কাজের পরিবেশ দিতে তার সদিচ্ছা ছিল সত্যিই প্রেরণাদায়ক। বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের সেইসব কাহিনী- ইংরেজি ও বাংলা দুইভাবে লিখতে গিয়েই, যার যার সঙ্গেই পরিচিত হয়েছেন, তাকে নিজের ঘরের মানুষের মতো দেখেছেন ও যত্ন করেছেন। তার বাবার এই বইয়ের অনুবাদ থেকে শুরু করে ছাপা পর্যন্ত প্রত্যেকটা ছোট ছোট কাজকে তিনি যেভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছেন, সেভাবেই এ কাজে জড়িত প্রত্যেকটা মানুষকেও তিনি সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। আর যখন তিনি জানতে পারলেন, আমি তার ভাই শেখ কামালের ব্যাচমেট, তখন থেকে ঠিক ভাইয়ের বন্ধুর মতোই আমাকে দেখেছেন। এমন কোনো সময় আমি মনে করতে পারব না যে, শেখ হাসিনা আমাকে শুধু কাজের মানুষ হিসেবে দেখেছেন, সবসময়ই তার পরিবারের একজন মনে করেছেন।

আর সেই কর্মমুখর সময় আমাকে বুঝতে সহযোগিতা করেছিল, তিনি কতটা তার পিতার অনুরূপ প্রতিচ্ছবি এবং তার সহজতা, উষ্ণ ব্যক্তিত্ব এবং প্রত্যেককে স্বাগত জানাবার ক্ষমতা সম্পর্কেও আমি সেসময়ই জ্ঞাত হই। এক কথায় বললে, বঙ্গবন্ধুর কারাগারের জীবন নিয়ে বইটি অনুবাদ করতে গিয়ে আমি যে প্রধানমন্ত্রীকে আবিষ্কার করেছি- তিনি একদিকে যেমন একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, তেমনি স্নেহ, ভালোবাসায় পরিপূর্ণ একজন অসাধারণ কন্যাও। সবদিক থেকে বলতে গেলে- একজন বিস্ময়কর মানুষ তিনি।
(লেখক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক, ইউজিসি অধ্যাপক, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি’র পরিচালক। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থের ইংরেজী অনুবাদক।)