প্রেমে উঠবে জেগে বিরহী দুপুর -অনিন্দ্য টিটো

প্রকাশিত: ৬:২১ অপরাহ্ণ , মে ১৭, ২০২১
ঘোর অমানিশার অন্ধকারেও দাঁড়িয়ে বলছি
আমাদের আকাশগঙ্গা চুষে নেবে
সমস্ত অশুভ অন্ধকার;
আলো আসবেই
ফুলেরা ফুটবেই
পাখিরা গাইবেই
সবুজ হবে সমতল ঘাসভূমি
স্বচ্ছ হবে জলাধার।
সম্পর্কের তেজস্ক্রিয়তায়
যে হৃদয় পূড়ে গেছে
সেখান থেকেই প্রেম জেগে উঠবে!
শরীরের সীমানা আর স্বপ্ন পেরিয়ে
হৃদয় খুঁজে নেবে তরতাজা গোলাপ
গতিহীন আকাশে বাতাসেরা ছুটবে।
কার্তিকের রাতে ওঠা মেঠোচাঁদের গল্পে
প্রেমিক বাঁশিতে বাজবে পিপাসার সুর
অনন্ত সময় চেঁছে তুলে আনবে অমর কবিতা
প্রেমে উঠবে জেগে রোদজ্বলা বিরহী দুপুর।
আজও তাই, স্বপ্ন দেখে যাই
আগামির গান ও কবিতাগুলো হবে
তারুণ্যের প্রেমে ভরপুর ;
অর্থে-বুননেও হবে দারুণ
নাগরিকমুখী, মানবিক, গতিশীল।
শিরদাঁড়া সোজা রেখে যদি হতে হয় একা
পথটাও হয় যদি দুর্জনদের থুতু ছিটানো
তবুও বধ হবে অসুর;
অপ্রেমের প্রতিবাদে জাগবে ন্যায়ের বজ্রমুষ্ঠি
নদীর উপরে উড়বে শঙ্খচিল!
না হয় আমি, আকাশগঙ্গা ছায়াপথের মত
লুঠ করে নেব ঝাঁক ঝাঁক তারা;
পৃথিবীর কোণে কোণে
মানুষের মনে মনে
জমা হওয়া অন্ধকারে, দিয়ে যাব জ্বেলে।
বিষাদ ছুঁয়ে যাওয়া বাগানেতে হাসবে
গোলাপ, স্বর্ণচাপা, জুঁই, বেলী, চামেলীরা;
শুকিয়ে যাওয়া খালে
তপ্ত টিনের ঘরের চালে
পদ্মদিঘীর শীতল জলরাশি, দিতে চাই ঢেলে!
জানি না, বাতাসের আলিঙ্গনে থির থির কাঁপে যে জলেরা
শঙ্কায় নাকি মিলনে;
জানি না, বর্ষার দুপুরে ঝিঙে ফুলে ফুলে যে ফিঙেরা নাচে
কোন নন্দিত আনন্দনে।
নক্ষত্রের আলোকমণ্ডলে খেলা চলে
বর্ণিল রঙা আলোর;
অন্ধকার সমুদ্র স্বরে হয় না কেন তবে
ধূসর পাণ্ডুলিপির ভোর!
তারপরও …
হুতুম পেঁচার ডাকে
একাকীত্ব বাড়ে যদি;
তখন নক্ষত্রের দিকে চেয়ে থেকে
ভেবে নিতে চাই আমি তো একা নই।
শঙ্খশুভ্র মেঘপুঞ্জে
বানাব প্রেমের নদী;
যেসব মানুষেরা ডুবে আছে ঘাতক অন্ধকারে
আমি যেন তাদের আলোর খেয়া হই!
• মে ১৭, ২০২১।
ছবিঋণ– রূপম চক্রবর্তী, বিশিষ্ট আলোকচিত্রী।