মির্জাপুরে মিথ্যা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান মিল্টনের জামিন

প্রকাশিত: ৩:২১ পূর্বাহ্ণ , এপ্রিল ২৬, ২০২১

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় ১৩ নং বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মো. আতিকুর রহমান মিল্টন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

মহামান্য হাইকোর্ট তাকে জামিন দিলে আজ রবিবার তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি এসেছেন বলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, মো. আতিকুর রহমানের পিতার নাম মৃত মো. আফতার উদ্দিন মাষ্টার। গ্রামের বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্রামে। আতিকুর রহমান মিল্টন ১৩ নম্বর বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য। তিনি মির্জাপুর সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। তার বড় ভাই মো. আজাহারুল ইসলাম আজাহার ১৩ নং বাঁশতৈল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি।

পুলিশ সুত্র জানায়, মির্জাপুর উপজেলা সদরের কুমুদিনী হাসপাতাল রোডের বাইমহাটি এলাকায় যমুনা জেনারেল হাসপাতাল (প্রাইভেট) এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক ছিলেন ডা. মো. মনিরুল হুদা রুপম। ২০১২ সালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার যোগে গাজীপুরের বাসায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন ডা. রুপম। ঘটনার দুই দিন পর ঢাকা-ময়মনসিংহ-গাজীপুর মহাসড়কের জয়দেপুর থানার ভোগড়া বাইপাস এলাকায় তার ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এই ঘটনার তার পরিবার গাজীপুরের জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনার ৮ বছর পর ঐ হত্যা মামলায় চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মো. আতিকুর রহমান মিল্টনকে পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসানো হয় বলে তার পরিবার দাবী করেছেন। হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিনে ছিলেন। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ছিল আতিকুর রহমান মিল্টনের গাজীপুরে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্ধারিত তারিখ। ২৭ ডিসেম্বর মো. আতিকুর রহমান মিল্টন গাজীপুর জেলার সিনিয়র চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইলিয়াস রহমানের আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আতিকুর রহমান মিল্টনের নামে মিথ্যা ও সাজানো মামলা প্রত্যাহার ও জেল থেকে মুক্তির দাবীতে আতিকুর রহমান মিল্টনের পরিবারের পক্ষ থেকে মির্জাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটি ও প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

এদিকে আতিকুর রহমান মিল্টনের পক্ষে হাই কোর্টের দেওয়া পুর্বের জামিন বহাল চেয়ে গত ২০ এপ্রিল হাই কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেন। আবেদনের পর রাষ্ট্র পক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়ে বিচার পতি সৈয়দ মামুদ হোসেনের নের্তৃত্বে গঠিত বেঞ্চ চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মিল্টনের পুর্বের জামিন বহাল রেখে মুক্তির নির্দেশ দেন। চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মিল্টনের পক্ষে আইনজীবি ছিলেন মনসুরুল হক চৌধুরী এবং এস এম শাজাহান। অপর দিকে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবি ছিলেন ডেপুটি আ্যাটনি বিশ্বজিৎ দেবনাথ।