রামগড়ে আগুনে পুড়ে বসত বাড়ি ভস্মীভুত

বাহার উদ্দিন বাহার উদ্দিন

রামগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:১৫ অপরাহ্ণ , মার্চ ২৬, ২০২১

খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় ইউনিয়নে লামকুপাড়ায় আজ (২৬ মার্চ) সকাল দশটায় এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে রামগড় ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু তাহেরের ছেলে আবু সুফিয়ান সোহেল এর বসতবাড়ির ২ টি ঘর আগুনে পুড়ে যায়।এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ।
আবু সুফিয়ান লামকুপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে রামগড় ফায়ারসার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভানোর কাজ করতে গেলে জনরোষের কারণে আগুন না নিভিয়ে ফিরে আসে।
প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা বলেন, আগুন লাগার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে সেখান থেকে একটি গাড়ি আসে, যাতে কোন পানি ছিল না। পরবর্তিতে আরেকটি পানি ভর্তি গাড়ি পৌঁছলে ততক্ষণে বাড়ির আসবাবপত্র পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। যার ফলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাধারণ জনগণের রোষানলে পড়তে হয়েছে।স্থানীয় লোকজন ফায়ারসার্ভিস সদস্যরা পৌছানোর পূ্র্বেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে আমি দ্রুত ঘটনাস্থল গিয়ে জানতে পারি রান্নার চুলার মাধ্যমে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে।ঘরে থাকা প্রায় ২০ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র ও নগদ অর্থ পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছে জনরোষে পরার বিষয়ে তিনি বলেন, কালডেবায় – লামকুপাড়া সড়কের উপর ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। যার দরুন ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়ীটা আসতে দেরী হওয়ায় লোকজন উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিল। আমি উপস্থিত সকলকে শান্ত করে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি।
এ বিষয়ে রামগড় ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা বলেন,আমাদের সদস্যরা স্বধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে মহড়ার কাজ করছিল।আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক দমকলকর্মীদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে দেই।সড়কের উপর ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় গাড়ি পৌঁছাতে সময় লেগেছে।আমাদের পানিভর্তি গাড়ি পৌঁছানোর পূর্বেই স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
এদিকে আগুন লাগার সংবাদ শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন রামগড় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কুমার কার্বারীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।