হুজি’র অপারেশন শাখার প্রধানসহ তিন সদস্য গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৫:০০ অপরাহ্ণ , মার্চ ৫, ২০২১

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামীর (হুজি) অপারেশন শাখার প্রধানসহ তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ শুক্রবার জানানো হয়, গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- মো: মাইনুল ইসলাম ওরফে মিঠু ওরফে হাসান, শেখ সোহান স্বাদ ওরফে বারা আব্দুল্লাহ ও মুরাদ হোসেন কবির।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫টি মোবাইল ফোন, ১টি মাইক্রোফোন, ১টি চাপাতি, ২টি ছোড়া, ১০টি ডেটোনেটর, ১৭০টি বিয়ারিং লোহার বল, ১টি স্কচটেপ, ৫ লিটার এসিড, ৩টি আইডি কার্ড, ১টি জিহাদি বই ও ১টি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ী থানার সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, তারা ‘হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী’এর সক্রিয় সদস্য। তারা মাইনুল ইসলামের নেতৃত্বে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী পুনর্গঠন, সংগঠনের অর্থ দাতা এবং সদস্যদের কাছ থেকে অর্থের যোগান নিশ্চিত করণের কাজে নিয়োজিত ছিলো।

এছাড়া অস্ত্র সংগ্রহ, বোমা তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং কারাগারে আটক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের জামিনের ব্যবস্থা, বান্দরবান-নাইক্ষ্যংছড়ি পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় জমি লিজ নিয়ে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থার করার জন্য কাজ করছিলো।

তারা কারাগারে আটক ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডাক্তার জাফর ও ২০০০ সালে কোটালিপাড়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলার যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামি মেহেদী হাসান ওরফে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে গাজী খানের নির্দেশে সাংগঠনিক কাজ করছিলো।

মাইনুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবত নিষিদ্ধ সংগঠন হুজি’র প্রধান অপারেশন সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছিলো। সে সংগঠনের দাওয়াতি কাজ, অর্থ সংগ্রহ ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ করে আসছিলো। তার পরিকল্পনা ছিলো ঢাকা শহরে বড় ধরনের নাশকতা করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা।

সোহান স্বাদ সুনামগঞ্জ’র বিবিয়ানা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে। সে ঢাকায় মিরপুর বাংলা কলেজে পড়ার পাশাপাশি একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতো। ২০১৬ সালে একুশে বই মেলায় নাশকতার ঘটনায় গ্রেফতার হয়। এছাড়াও সে ২০১৭ সালে বিষ্ফোরক মামলায় এবং ২০১৯ সালে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার হয়। জামিনে বের হয়ে সে মাইনুলের নেতৃত্বে হুজির সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করতো।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সূত্র : বাসস