একই স্থানে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ, বসুরহাটে ১৪৪ ধারা

প্রকাশিত: ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১

নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জের বসুরহাটে একই স্থানে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এ সময় সব ধরনের সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউল হক মীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়েছে, ‘সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পুরো বসুরহাট পৌর এলাকার সর্বত্র এ আদেশ কার্যকর থাকবে।’

এদিকে নিষেধাজ্ঞা জারির পরপরই রোববার রাত ১১টার পর থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে।

এর আগে, শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল সোমবার দুপুরে বসুরহাট বাজারের রুপালী চত্বরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে সমাবেশ আহ্বান করে। পরে একই স্থানে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

এ দুই নেতার দ্বন্দ্বের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক সাংবাদিক। দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বার্তা বাজার ডট কমের নিজস্ব প্রতিবেদক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির। রোববার রাত সাড়ে ৮টায় কোম্পানীগঞ্জের চর ফকিরায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের এমন মৃত্যুকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নেক্কারজনক ঘটনা উল্লেখ করে এ ঘটনার সাথে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম।

তিনি বলেন, ‘এই ধরনের একটা উঠতি বয়সের ছেলে সাংবাদিকতা পেশার সাথে যুক্ত ছিল, তাকে এ বয়সে এভাবে হত্যা করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এ ধরনের কাজ যে বা যারা’ই করুক তাদেরকে যেন আইনের আওতায় আনা হয়।’

জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, ‘এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দিলে তা গ্রহণ করা হবে এবং হত্যাকারীদেরকে কোন প্রকার ছাড় দেওযা হবে না। এছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় এর আগে দায়ের করা দুটি মামলার তদন্ত এবং আসামীদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।’

গত শুক্রবার বিকেলে চারপরাশির হাট পূর্ব বাজারে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা অনুসারী ও উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন মুজাক্কির। এ সময় তার বুকে ও গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রাবার বুলেট লাগে।

পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবীড় পরিচর্যা কেন্দ্রে শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।