সাবেক এমপি হাবিবসহ ৫০ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

প্রকাশিত: ১:১০ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২১

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সাবেক বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। রায়ে অর্ধশত আসামির মধ্যে বিএনপির সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ তিনজনের সর্বোচ্চ ১০ বছর ও বাকিদের সর্বনিম্ন ৪ বছর করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক হুমায়ুন কবীর এ রায় দেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন কারাগারে থাকা ৩৪ জন আসামি।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ধর্ষিতা এক নারীকে দেখতে আসেন। তিনি ঢাকায় ফেরার পথে বেলা ১১টার দিকে কলারোয়া বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়ি বহরে হামলার অভিযোগ উঠে তৎকালীন ক্ষমতাসীন জোট সরকারের বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দীন বাদী হয়ে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আশরাফ হোসেনসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাত ৭০/৭৫ জনের নামে আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে এক যুগ পর ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর কলারোয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

এরপর ২০১৫ সালের ১৭ মে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে ৩০ জনকে স্বাক্ষী করে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেখ সফিকুর ইসলাম।

সাতক্ষীরা চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৯ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণের পর ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতে আসামিপক্ষের আবেদনে মামলার কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দেন উচ্চ আদালত। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত চলতি বছরের ২২ অক্টোবর মামলাটির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নথি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে নির্দেশ দেন।

এ মামলার ৫৪ জন আসামির মধ্যে ৪ জন মারা গেছেন, ১৬ জন পলাতক রয়েছেন এবং ৩৪ জন আদালতে হাজির আছেন।

সরকার পক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মুনির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত মুখার্জি , ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহিন মৃধা ও সাতক্ষীরার পিপি অ্যাড. আবদুল লতিফ।

এছাড়া আসামি পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট শাহানারা আক্তার বকুল, অ্যাড. আবদুল মজিদ, অ্যাড. মিজানুর রহমান পিন্টু ও অ্যাড. তোজাম্মেল হোসেন।