মুক্তিপণ না দেয়ায় পুকুরে মিলল অপহৃত শিশু মরদেহ

প্রকাশিত: ২:৫৬ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ২২, ২০২১

বগুড়ার গাবতলীতে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের এক মাস পর ৬ বছরের শিশু হানজেলার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের অবহেলা আর গাফলতির কারণেই জীবিত উদ্ধার করা যায়নি তাদের সন্তানকে।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) রাতে অপহরণকারীদের ফোনের সূত্রধরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হৃদয় বিদারক এই ঘটনা ঘটেছে উপজেলা রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের নিশুপাড়া গ্রামে। আর অপহৃত শিশু হানজেলা ওই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী পিন্টু মিয়ার ছেলে।

রামেশ্বরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য  ও নিশুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়া জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে শিশু হানজেলা অপহৃত হয়। ঘটনার দিনই বিষয়টি নিয়ে থানায় জিডি করা হয়। ছেলে অপহরণের খবর পেয়ে দুদিন পর তার বাবা দেশে ফিরে আসেন। এদিকে ওই শিশুর মা তাছলিমার মোবাইলে ফোন করে প্রথমে ৫ লাখ ও পরে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। টাকা না দিলে ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে জানায়।

শিশুটির বাবা-মা অপহরণকারীর মোবাইল নম্বর নিয়ে থানা পুলিশের কাছে ধর্না দেন। কিন্তু গত এক মাস ১০ দিনেও শিশুটি উদ্ধার কিংবা অপহরণকারীকে গ্রেফতার করতে পারেনি গাবতলী মডেল থানা পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যে নম্বর থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল সেই একই নম্বর থেকে শিশুটির মাকে ফোন করে টাকা না পাওয়ায় তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হয়। সেই সাথে তাদের বাড়ির পাশের পুকুরে মরদেহ আছে বলেও জানায় অপহরণকারী। পরে পুকুর থেকে পলিথিনে মোড়ানো এবং ইট বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে রাখা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুজ্জামানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি থানায় অবগত করার পর থেকে পুলিশ মাঠে নেমেছেন। কয়েক দফা মোবাইলের সিডিআর বেড় করা হয়েছে। কিন্তু ভুয়া নামে মোবাইল ব্যবহার করায় সঠিকভাবে লোকেশন চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে কোন প্রকার অবেহলা বা গাফলতি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।’