শরীয়তপুর সরকারের বিশেষ বরাদ্ধের ওএমএস’র ৫০ বস্তা চাল উদ্ধার

প্রকাশিত: ১০:১৭ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ১৪, ২০২১

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় সরকারের বিশেষ বরাদ্ধ ওএমএস’র ১০ টাকা কেজি দরের ৫০ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে নড়িয়া পৌরসভার বাংলাবাজারের মোহনা বহুমুখী সমবায় সমিতির কার্যালয় থেকে চালগুলো উদ্ধার করা হয়। সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ১০ টাকা কেজি দরে গরীবদের মধ্যে বিক্রির জন্য সরকার এ চালগুলো বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছিলেন। যা গত ২০২০ সালের জুন মাসের আগেই বিক্রি কার্যক্রম শেষ হয়ে যায়। স্থানীয়দের ধারণা, ওই সময় কার্ডধারীদের চাল না দিয়ে কালোবাজারে বিক্রির জন্য এগুলো মজুদ করে রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৩ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে সমিতির ওই কার্যালয়ে করোনাকালীন সময়ের সরকারের বিশেষ বরাদ্দের চাল রয়েছে জানতে পেরে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাৎক্ষণিক উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর ও ব্যবস্থা নিতে বলেন। নির্দেশ পেয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মিলন মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে সমিতির ওই কার্যালয়ের লোকজন ডেকে তালা খুলে ওএমএস’র প্রায় ৫০ বস্তা চাল দেখতে পান। যা করোনা প্রাদুর্ভাবের সময় গরীবদের জন্য সরকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই কার্যালয়ে ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রি করতেন চালের ডিলার জোসনা বেগমের স্বামী পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম সরদার। স্ত্রীর নামে ডিলারশীপ শহিদুল ইসলাম সরদার নিজেই পরিচালনা করতেন এবং তিনি সমিতির লোকজনকে ম্যানেজ করে সমিতির কার্যালয় থেকেই চাল বিক্রি করতেন। নড়িয়া উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মিলন মিয়া বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে নড়িয়া পৌরসভার বাংলাবাজারে গিয়ে একটি সমিতির কার্যালয়ের ভিতর করোনাকালীন সময়ে সরকারের বিশেষ বরাদ্দ ওএমএস’র প্রায় ৫০ বস্তা চাল পাওয়া যায়। যা ছয়মাস আগেই বিক্রির কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে। চালগুলো প্রায় নষ্টের পথে। আমরা রাতেই ওই কার্যালয়টি সিলগালা করে দিয়ে এসেছিলাম। দুপুরের দিকে চালগুলো জব্দ করে নিয়ে এসেছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিষয়ে ডিলার জোসনা বেগমের স্বামী শহিদুল ইসলাম সরদার বলেন, চালের মান খারাপ হওয়ায় ওই সময় কার্ডধারীরা চাল নিতে আসেননি। বিষয়টি আমি পৌরসভা মেয়রকে জানিয়েছি। তিনি কোনো ব্যবস্থা নিতে বলেননি। তাই চালগুলো ওখানেই রয়ে গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তানভীর আল নাসিফ বলেন, বুধবার রাতে স্থানীয় লোকজনের মাধমে জানতে পেরে তাৎক্ষণিক উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। ঘটনার সত্যতা পওয়ায় রাতেই ওই কার্যালয়টি সিলগালা করে দেই। আজকে দুপুরের দিকে চালগুলো জব্দ করে নিয়ে এসেছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।