নারাজ স্কুলছাত্রীকে অপহরণ, প্রেমিকসহ শ্রীঘরে ২

প্রকাশিত: ৯:৩০ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ৭, ২০২১

প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অপহরণের শিকার হয়েছেন নবম শ্রেণির এক ছাত্রী। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধার ও দুই অপহরণকারীকে গ্রেফতার করার পরে তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

জানা যায়, শাকিল হোসেন (২০) নামে এক যুবকের সঙ্গে মুঠোফোনে পরিচয় হয়েছিল নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর (১৪)। পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেম। তারপর ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় শাকিল। কিন্তু বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে শাকিল ও তার সহযোগী ইব্রাহিম শেখ (৪৫) ওই ছাত্রীকে অপহরণ করেন।

এ ঘটনায় বুধবার (৬ জানুয়ারি) সকালে শার্শা থানায় শাকিল হোসেন ও ইব্রাহিম শেখের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মুঠোফোন হ্যাক করে ওই দিনই দুপুরে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার বরইপাড়া গ্রাম থেকে অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করে। এ সময় দুই অপহরণকারীকেও গ্রেফতার করা হয়। আসামি শাকিল হোসেন ও ইব্রাহিম শেখের বাড়ি কুষ্টিয়ার ইবি থানার বরইপাড়া গ্রামে।

মেয়েটির মা জানায়, তাদের বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার পল্লীতে। তার মেয়ে উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। শাকিল হোসেনের সঙ্গে তার মেয়ের মুঠোফোনে পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে শাকিল তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তার মেয়ে সে প্রস্তাবে রাজি হয়নি।

তিনি আরও জানান, গত ২ জানুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে তার মেয়ে বিদ্যালয় থেকে নতুন বই নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় বিদ্যালয়ের সামনে পাকা সড়কের ওপর থেকে শাকিল হোসেন ও ইব্রাহিম শেখ মেয়েকে অপহরণ করে মোটরসাইকেলে শহরের দিকে চলে যান। মেয়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন সেখানে উপস্থিত হন। কিন্তু তারা মেয়েকে রক্ষা করতে পারেননি।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘বুধবার থানায় মামলা করার পর অভিযান চালিয়ে কুষ্টিয়ার ইবি থানার বরইপাড়া গ্রাম থেকে অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুই আসামি শাকিল হোসেন ও ইব্রাহিম শেখকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। বুধবার বিকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি জানান, ‘যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে অপহৃত ছাত্রীটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। এ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।’

পরে আদালতের নির্দেশে উদ্ধারকৃত ছাত্রীকে তার মায়ের জিম্মায় দেয়া হয়েছে বলেও জানান ওসি।