ভাসানচরে উন্নতমানের হাসপাতাল-ক্লিনিক

প্রকাশিত: ১:৪৪ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ৫, ২০২১

ভাসানচরে নিশ্চিত করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবা। প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গার জন্য একটি ২০ শয্যার হাসপাতাল ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। প্রস্তুত হচ্ছে আরও একটি ২০ শয্যার হাসপাতাল ও তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক। এর বাইরে বেসরকারি সংস্থার দুটি হাসপাতালও সেবা দিচ্ছে। উন্নত সেবা পেয়ে খুশি রোহিঙ্গারা। 

পরিকল্পিত নকশায় ভাসানচরে গড়ে উঠেছে এরকম ১২০টি ক্লাস্টার হাউজ। প্রতিটি ক্লাস্টারে ১২টি বাড়ি আর এক একটি বাড়িতে ১৬টি করে ঘর। ৪ জন করে থাকতে পারবেন প্রতিটি ঘরে।

৪ ডিসেম্বর কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে আসা রোহিঙ্গার মধ্যে পুরুষ ৩৬৮, নারী ৪৬৪ ও শিশু ৮১০ জন। দ্বিতীয় দফায় ২৯ ডিসেম্বর ৪৩৩ জন পুরুষ ও ৫২৩ নারীর সাথে আনা হয় ৮৪৮ শিশুকে।

প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে আগেই সব ব্যবস্থা করা হয়। ২০ শয্যার একটি সরকারি হাসপাতাল ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক বিনামূল্যে সেবা দিচ্ছে। এক মাসে সেবা নিয়েছেন দেড় হাজারেরও বেশি রোগী।

ভাসানচর বিশ শয্যা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সুকান্ত দাশ বলেন, হাসপাতালের জন্য যেসব যন্ত্রপাতির প্রয়োজন তার সবই এখানে চলে এসেছে। আমরা আশা করছি, কিছুদিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হিসেবে ভাসানচর হাসপাতাল-১ কাজ শুরু করে দিবে।

বেসরকারি সংস্থার দুটি হাসপাতালও সেবা দিচ্ছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. আরফিন রহমান বলেন, জ্বর, সর্দি, ঠাণ্ডা, প্রেসার, ডায়াবেটিস- যেগুলো ওষুধের মাধ্যমে সারানো সম্ভব এগুলোর চিকিৎসা আমরা দিচ্ছি। এর সঙ্গে ছোটখাটো কাটা-ছেড়া, ড্রেসিং সেগুলোও আমরা এখান থেকে করে দিচ্ছি।

যে কোনো সমস্যায় ডাক্তারদের পাশে পেয়ে খুশি মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভাসানচর থেকে নোয়াখালীসহ অন্য হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

৩ হাজার ৪৪৬ জন রোহিঙ্গার জন্য ভাসানচরে সরকারের ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশাপাশি এনজিওর আরও দুটি ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সেবার মান বাড়ানোর জন্য সরকারের আরও একটি হাসপাতাল এবং তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রস্তুত হচ্ছে, সেগুলো খুব দ্রুতই কাজ শুরু করবে। এখানকার রোহিঙ্গারা ভাসানচরের যে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন তার মান নিয়েও খুশি।