পাঁচবিবিতে সন্তানের হাতে নির্যাতনের শিকার অসহায় মা, দ্বারে দ্বারে ঘুরছে বিচারের আশায়

প্রকাশিত: ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ , ডিসেম্বর ২৯, ২০২০
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ছেলের হাতে নির্যাতনে শিকার হয়েছেন মেহেরুন বেওয়া (৬৮) নামের এক অসহায় মা। ছেলের হাতে মার খেয়ে, রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় আর মানুষের দ্বারে দ্বারে বিচারের আশায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ছেলের হাতে নির্যাতনে শিকার হয়েছেন মেহেরুন বেওয়া (৬৮) নামের এক অসহায় মা। ছেলের হাতে মার খেয়ে, রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় আর মানুষের দ্বারে দ্বারে বিচারের আশায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।

প্রায় প্রতিদিনই ছেলেদের হাতে শরীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় এই বিধবা মাকে। স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বার দ্বারা বিচার করেও কোন প্রতিকার পায়নি এই বৃদ্ধা মা, এমনটিই জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভিমপুর গ্রামে।

মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মৃত-মকবুল হোসেনের স্ত্রী মেহেরুন বেওয়াকে তার ছেলে হাবিবুল মেরে রক্তাক্ত করে বাড়ি থেকে রাস্তায় বের করে দিয়েছে।

স্থানীয় দোকানদার ফিরোজ হোসেন বলেন, এই অসহায় বৃদ্ধ মাকে তার ছেলেরা প্রায় মারধর করে। এরা সন্তান নামের কলংক। এদের বিচার হওয়া দরকার। মায়ের গায়ে হাত তুলে কোন সাহসে, এদের কারণে মানুষের এতো অধপতন।

অসহায় মা মেহেরুন বেওয়া কেঁদে কেঁদে বলেন, কত কষ্ট করে সন্তানদের জন্ম দিয়েছি আবার নিজে না খেয়ে তাদের মানুষ করেছি। আজ তার প্রতিদান এই নির্যাতনের শিকার হতে হয় প্রতিদিন। প্রায় ছেলেরা আমাকে বৌ আর মেয়েদের কথা শুনে মারে। আজ সকালে নাতনিকে মাংস কিনার জন্য কিছু টাকা চাইছি। আমার কথা না শুনে মেয়ের কথা শুনে হাবিবুল আমাকে গলা টিপে ধরে মাটিতে ফেলে মারতে থাকে। আমি আর সহ্য করতে পারছি না বাবা, তোমরা আমার বিচার করে দেও।

এবিষয়ে পাঁচবিবি থানা অফিসার ইনচার্জ পলাশ চন্দ্র দেবকে অবগত করলে তিনি জানান, মাকে মারধর কোন সন্তান করতে পারে না। এটা বড় অপরাধ, আমি থানার অফিসারদের ঘটনাস্থলে পাঠাচ্ছি এবং এর একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।