জাতীয় পতাকা অবমাননা

বেরোবির ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের

প্রকাশিত: ৭:৪০ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ১৭, ২০২০

ইভান চৌধুরী, বেরোবি প্রতিনিধি:

মহান বিজয় দিবসে জাতীয় পতাকা অবমাননার দায়ে বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের (বেরোবি) ভিসির পিএস এবং ৮ শিক্ষকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে তাজহাট থানায় মামলার জন্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বেরোবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ।
আসামিরা হলেন- গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ও বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট তাবিউর রহমান প্রধান, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. পরিমল চন্দ্র বর্মণ, ভূগোল পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শামীম হোসেন, ইতিহাস ও প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক সোহাগ আলী, মার্কেটিং বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক রাম প্রসাদ বর্মণ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক রহমতউল্লাহ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক কাইয়ূম খান, ভিসির ব্যাক্তিগত সচিত আমিনুর রহমান প্রমুখ।
এদিকে জাতীয় পতাকা অবমাননার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠন অধিকার সুরক্ষা পরিষদ। বিবৃতিতে তারা জানান, ভিসি অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ’র নির্দেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকার ডিজাইন পরিবর্তন করে ক্যাম্পাসে উড়ানো হয়েছে পতাকা। জাতীয় পতাকা আইন অনুযায়ী এটা অপরাধ। কী উদ্দেশ্যে, কারা পতাকার ডিজাইন পরিবর্তন করলো তা তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
জাতীয় পতাকা অবমাননার প্রতিবাদ জানিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর ফটকে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন- জাতীয় পতাকার এমন বিকৃতি মূলত মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সকল শহীদদের প্রতি অশ্রদ্ধার সামিল। বর্তমান ভিসি কলিম উল্লাহর প্রশাসনের সর্বোচ্চ ব্যক্তিরা নানা ভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান করছে। তারই অংশ হিসেবে জাতীয় পতাকার ডিজাইন পরিবর্তন করেছে নামধারি সেই সব শিক্ষকরা। এর আগেও বর্তমান প্রশাসন জাতির পিতার নামের বানান ভুলসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামের বানান ভুল করে। বারবার ভুল অনিচ্ছকৃত হতে পারে না। প্রশাসনের এসব ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট একটা গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও ক্যাম্পাসের সুনাম নষ্টের পায়তারা করছে বলেও অভিযোগ বক্তাদের। এসব কাজের সাথে জড়িত সকলের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এছাড়াও বিশ^বিদ্যালয় সংলগ্ন পার্কের মোড়ে জাতীয় পতাকা অবমাননার সাথে জড়িত সকল দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রংপুর মহানগর যুগলীগ। বিক্ষোভ শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে মহানগর যুবলীগের নেতৃবৃন্দ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে তাজহাট থানার তদন্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন- এ বিষয়ে একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, মহান বিজয় দিবসে জাতীয় পতাকার নকশার বিকৃতি ঘটিয়ে নিজেদের মতো করে তৈরি করা জাতীয় পতাকা নিয়ে ক্যাম্পাসে ছবি তোলেন বর্তমান প্রশাসনের বেশ কয়েকজন শিক্ষক। মুহুর্তেই ছবিগুলো ভাইরাল হয়ে পড়ে। শিক্ষকদের এমন কর্মকান্ডে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ক্যাম্পাসসহ পুরো দেশ।