সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রকাশিত: ৭:৪৪ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ৯, ২০২০

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবাধিকার লংঘনের ঘটনায় প্রতিকার পাওয়ার পথ সুগম করতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়েছেন।

‘মানবাধিকার দিবস’ উপলক্ষে আজ এক বাণীতে তিনি এ আহবান জানান। আগামীকাল ১০ ডিসেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদায় এ দিবস উদযাপিত হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘মানবাধিকার দিবস’ উদ্যাপিত হচ্ছে জেনে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি এবারের মানবাধিকার দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ঘুরে দাঁড়াবো আবার, সবার জন্য মানবাধিকার’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে মানবাধিকার দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু ও মানবাধিকার’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুর মানবাধিকার দর্শন সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর মানবাধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস পালিত হয়ে আসছে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবসময় একটি ন্যায় ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের ১৯৭২-এর সংবিধানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সকল মানবাধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। আমাদের সংবিধান জাতিসংঘ ঘোষিত সর্বজনীন মানবাধিকারের সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ।

তিনি বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ২০০৯ সালে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করে। দেশের সকল নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষা ও জনগণকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে তিনি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে তৃণমূল পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সামগ্রিক কার্যক্রম আরো জোরদার করার আহবান জানান।

আবদুল হামিদ বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশ ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে মানবিক ও দায়িত্বশীল নীতির অনন্য নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মাদার অভ হিউম্যানিটি’ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবাধিকার লংঘনের ঘটনায় ভূক্তভোগীদের প্রতিকার পাওয়ার পথ সুগম করতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তরিক প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রাষ্ট্রপতি ‘মানবাধিকার দিবস’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।- বাসস