শরীয়তপুর আধুনিক প্রযুক্তিদিয়ে আন্তজেলা চোর চক্রের ৭ চোর গ্রেফতার

প্রকাশিত: ২:১৩ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ২১, ২০২০

ফিরোজ খান,শরীয়তপুর প্রতিনিধি।।

শরীয়তপুরের পুলিশ বিভাগ আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আন্তজেলা চোর চক্রেরে ৭ চোরকে গ্রেফতার করেন। এতে করে ব্যবসায়ীদের প্রশংসায় ভাসছেন পুলিশ সুপার এস,এম আশরাফুজ্জামান।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া শরীয়তপুর জেলা শহরের পালং উত্তর বাজারের একটি মোবাইল ফোন শো রুমে চুরি হওয়ার পর সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ এবং ফোন কল ট্রাকিং করে চোর সনাক্তে সফল হয় পুলিশ টিমের সদস্যরা।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস বিফিং এর মাধ্যমে শরীয়তপুরে কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের এই সফলতার বিষয়টি অবহিত করেন জেলা পুলিশ সুপার এস,এম আশরাফুজ্জামান।

প্রেস ব্রিফিং থেকে জানা যায়, চলতি অক্টোবর মাসের ৫ তারিখ ভোর পৌনে ৬টার দিকে জেলা শহরের পালং উত্তর বাজারে সেমন্ত ঘোষের মর্ডান স্মার্ট গ্যালারী নামক মোবাইল ফোনের শো-রুম থেকে প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যমানের ১শত ৬২টি মোবাইল সেট চুরি হয়। এ বিষয়ে পালং মডেল থানায় ওই দিনই একটি মামলা করা হয়। পালং থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করেন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চোর সনাক্ত করেন।

এরপরে তারা চোর চক্রকে গ্রেফতারের অভিযানে নামেন। অভিযান পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল আলম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই পল্লব কুমার সরকার সহ শরীয়তপুর জেলা পুলিশের একটি চৌকষ টিম। অভিযানে চোরচক্রের সদস্য (১)মো. মিলনকে কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থেকে, (২)মো. রফিককে চাঁদপুরের কচুয়া থেকে, (৩)মতিন ওরফে মতি ওরফে মইত্যাকে কুমিল্লার সদর থেকে, (৪) ইব্রাহিম ইসলাম ওরফে নয়ন সাহাকে চট্টগ্রামের অলংকার বাস টার্মিনাল থেকে, (৫) মোকারম হোসেন ওরফে মনির ওরফে মোনু ওরফে রুবেলকে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বস্তামি থানা থেকে, (৬) মানিক মিয়াকে কুমিল্লার চৌরাস্তা থেকে এবং (৭) মো. মকবুল হোসেনকে কুমিল্লার মুরাদ নগর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এই সময় তাদের কাছ থেকে চোরাই কাজে ব্যবহৃত কাটার ও ১টি চোরাই মোবাইল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

প্রেস ব্রিফিংএ উপস্থিত ছিলেন, পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আসলাম উদ্দিন, ডিআইও-১ আজহারুল ইসলাম সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাগণ।

প্রেস ব্রিফিং থেকে পুলিশ সুপার এস.এম. আশরাফুজ্জামান বলেন, চোরচক্রটি ঘটনার আগের রাতে শহরের চন্দ্রা রেস্ট হাউজে নিজেদের ছদ্ম নাম ও ভূয়া মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অবস্থান করে। রাত শেষে ভোরে তাদের নিজেদের কড়া সতর্ক অবস্থার মধ্যে মোবাইল মার্কেটের প্রধান ফটকের তালা এবং মোবাইল দোকানের শাটারের তালা কেটে দোকানে প্রবেশ করে। পরে দোকান থেকে বিভিন্ন ব্রান্ডের ১শত ৬২টি দামী মোবাইল সেট চুরি করে নেয়। সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষেন করে দেখা যায় চুরির সময় মোবাইল ফোনে কথা বলে মানিক, লুঙ্গি দিয়ে দরজা আড়াল করে রাখে নয়ন সাহা, দোকানের তালা কাটে রফিক ও মইত্যা।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ধৃত আসামীরা প্রাথমিক ভাবে স্বীকারোক্তি দিয়েছে কুমিল্লায় বসে তারা চুরির পরিকল্পনা করে। শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে আসামী রফিকের খালা বাড়ি। সেখানে বেড়াতে যাওয়ার পথে তারা এই চুরির ঘটনা ঘটায়। ঝিনাইদহ, কুমিল্লা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় এই পর্যন্ত আন্তজেলা এ চোর চক্রটি ৫০টিরও বেশী চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। তাদের টার্গেট থাকে মোবাইল, স্বর্ণ ও বিকাশের দোকান।

প্রেস ব্রিফিংকালে শরীয়তপুরে কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকলে এই চোর চক্রকে আটক করা সম্ভব হতো না। তিনি শরীয়তপুরের সকল হাট-বাজারগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ করেন।