লাভজনক প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হতে পারবেন না শিক্ষকরা

প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ , আগস্ট ৯, ২০২০

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধি অনুসরণ করতে শিক্ষক-কর্মচারীদের নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। কমিশন বলছে, বিনানুমতিতে অন্যকোন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগতভাবে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বা কোন ধরনের লাভজনক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকতে পারবেন না পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তারা।। এছাড়া দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চাকরিবিধি ও গবেষণার অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের আহবান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সেই সঙ্গে অনলাইন ক্লাসের জন্য স্মার্টফোন ক্রয়ে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীর তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ রবিবার (৯ আগস্ট) ইউজিসির জনসংযোগ ও তথ্য অধিকার বিভাগের পরিচালক ড. শামসুল আরেফিনের গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চাকরিবিধি/প্রবিধির যথাযথ প্রয়োগ ও প্রতিপালন, গবেষণা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং ডিভাইস ক্রয়ে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীর তালিকা প্রণয়নে ৪৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদেরকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লেখা পৃথক তিনটি চিঠিতে এসব অনুরোধ জানানো হয়। ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মো. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক স্বীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধি/প্রবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ ও প্রতিপালন করা অবশ্য কর্তব্য। চাকরিবিধি/প্রবিধি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কোন শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিনানুমতিতে অন্যকোন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগতভাবে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বা কোন ধরনের লাভজনক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকতে পারেন না।

কিন্তু কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের মধ্যে কেউ কেউ চাকরিবিধি/প্রবিধি অমান্য করে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে একদিকে যেমন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে যাচ্ছেন, অন্যদিকে আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করছেন যা কমিশনের গোচরিভূত হয়েছে। এহেন কর্মকাণ্ড চাকরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থে স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধি/প্রবিধি যথাযথ প্রয়োগ, অনুসরণ ও প্রতিপালনের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য চিঠিতে উপাচার্যদেরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরো বলা হয়েছে, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চাহিদা মতো প্রতি অর্থবছরে সরকার অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে গবেষণা কার্যক্রম অন্যতম বিধায় কমিশন গবেষণা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ খাতে অর্থ বরাদ্দ প্রদান করে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাদ্দকৃত অর্থের সাহায্যে গবেষণা প্রকল্প আহ্বান এবং প্রাপ্ত গবেষণা প্রকল্প পরীক্ষা-নিরীক্ষান্তে চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত প্রকল্পের অনুকূলে আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, গবেষণাখাতের অর্থ গবেষণা কার্যক্রমে ব্যয় করার নিয়ম থাকলেও কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটছে, যা কমিশনের নিকট পরিদৃষ্ট হয়েছে। গবেষণাখাতে বরাদ্দকৃত সমুদয় অর্থ শুধুমাত্র নির্বাচিত গবেষণাপ্রকল্পের কার্যক্রমে ব্যয়ের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য এতে অনুরোধ করা হয়।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালসমূহ দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকগণ মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থায় শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করার অভিপ্রায়ে গত ২৫ জুন কমিশন এবং উপাচার্যদের মধ্যে জুম ক্লাউডের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপাচার্যদের মতামতের ভিত্তিতে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রমে যাতে সকল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারে, সে লক্ষ্যে উচ্চগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধাসহ শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ডাটা সরবরাহ এবং সফট/গ্রান্টস-এর আওতায় স্মার্টফোন সুবিধার নিশ্চয়তা বিধানের জন্য কমিশন থেকে শিক্ষামন্ত্রীর বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয়।