কপিলমুনিতে চাচার মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে ভাতিজার সংবাদ সম্মেলন মিলন দাশ মিলন দাশ পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ণ , জুন ১৫, ২০২৬ কপিলমুনিতে চাচার করা মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে ও জীবননাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার আপন ভাতিজা| পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির কাশিমনগর বাজারে ১৫ জুন সোমবার বেলা ১১ টায় ওই সংবাদ সম্মেলন করেন ভাতিজা মোঃ রিফাত গাজী| সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক কাশিমনগর গ্রামের মৃত এনামুল গাজীর ছেলে মোঃ রিফাত গাজী লিখিত বক্তব্য বলেন, আমি, আমার বোন ও ¯^জনরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি| আমার চাচা মহিদুল গাজীর করা মিথ্যা মামলা ও অব্যাহত হুমকিতে বর্তমানে আমরা ভীষণ ভীত সন্ত্রস্ত| লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আমরা এতিম দু’ভাই-বোন ও ইট ভাটার শিশু শ্রমিক| আমাদের পিতা এনামুল গাজী ২০২১ সালে মৃত্যবরণ করেন| এরপর আমাদের গর্ভধারিনী মা রাশিদা বেগমকে ২৫ সালের ১৩ ডিসে¤^র পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়| এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় আমার চাচাসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরোও ১/২ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করি| যার নং-৭| ঐদিনই এলাকাবাসীর সহযোগীতায় পুলিশ চাচাকে গ্রেপ্তার করে| এরপর ২১ এপ্রিল এ মামলায় জামিনে বেরিয়ে আমার চাচা ও মায়ের হত্যাকারি মহিদুল গাজী (পিতা মৃত- এছেম গাজী) মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাকে ও আমার বোন তাসমিরা খাতুন (১৪) সহ মামলার অন্যান্য ¯^াক্ষীদের বিভিন্ন প্রকারের ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে| এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তায় আমি গত ১১ জুন পাইকগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছি| যার নং-৫৪০|লিখিত বক্তব্য রিফাত আরো বলেন, আমার মায়ের হত্যাকারী মহিদুল গাজী আমাকে প্রধান করে মামলার ¯^াক্ষীসহ ¯^জনদের বিরুদ্ধে ৭ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত আরোও ১৫/১৬ জনকে আসামী করে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি, আর-৪০৪/২৬ নং মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করছে| মামলায় উল্লেখ করা হয় যে, ঘটনার দিন আমার মা’ গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করলে আমরা পরস্পর যোগসাজশে তাকে মারপিট করে ˆবদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেধে রেখে পুলিশে খবর দিয়ে ধরিয়ে দিয়ে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে| এরপর পরিকল্পিতভাবে তারা তার বসতঘরের আসবাবপত্র, ¯^র্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামালা নিয়ে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে| এছাড়া আলমারীতে থাকা নগত টাকা, ¯^র্ণালংকারসহ অন্যান্য জিনিষপত্র যার মূল্য ৭ লক্ষ টাকা, দুধ বিক্রির ২০ হাজার টাকা আমি চুরি করি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে| এছাড়া মাছের খাদ্য, পুকর থেকে ১৫ লক্ষ টাকার মাছ, ৫০ হাজার টাকার কলা চুরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে| মামলায় করা আমার চাচার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন| আমার মায়ের হত্যা মামলার ময়না তদন্ত রিপোর্ট প্রদান সাপেক্ষে মামলার আইও কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: মনিরুল ইসলাম গত ৩১ জানুয়ারী ২৬’ আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন| যেখানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিভ মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ড. রনি কুমার ব্রহ্ম’র প্রস্তুতকৃত ময়না তদন্ত রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে আমার মা রাশিদা বেগম আত্মহত্যা করেছে বলে প্রতিবেদন দেন| ফলে পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারা থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়ে তার বিরুদ্ধে ৩০৬ ধারার অপরাধ প্রমানের কথা উল্লেখ করেন| আমার পিতার মৃত্যুর পর চাচা মহিদুল আমার মাকে বিভিন্ন সময় নানাভাবে উত্যক্ত করত| অস্ত্রের মুখে তাকে যৌণ হয়রাণি ও কু-প্রস্তাবসহ অনৈতিক কর্মকান্ডের ঘটনায় এলাকায় একাধিকবার শালিসী ˆবঠকও বসে| যার একটিতেও সে উপস্থিত না হয়ে উল্টো আমার মা’সহ আমাদের উপর চাপ প্রয়োগ করত| ঘটনার রাতে আমার মাকে চাচা বাইরে ডেকে নেওয়ার পর আমার মা আর ঘরে ফেরেনি| এমনকি বাইরে থেকে ঘরের শিকলবন্দি করা ছিল| এরপর সকালে লিচু গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তকালে শরীরের নানা অসংগতি, তাৎক্ষণিক পুলিশের বক্তব্য ও বিভিন্ন মিডিয়ায় এর প্রেক্ষিতে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়| অথচ আমার মায়ের ময়না তদন্ত রিপোর্টে আত্মহত্যা প্রমাণ মেলে| আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি পূণঃময়নাতদন্তের আবেদন জানাচ্ছি| মোঃ রিফাত গাজী এ সকল সমস্যার আইনি সমাধান ও চাচার হাত থেকে বাঁচতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন| শেয়ার সারা দেশবিষয়: