ইরান ও ইসরাইলকে অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের নিউজ৭১অনলাইন নিউজ৭১অনলাইন প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ণ , জুন ৮, ২০২৬ পাঁচ সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকার পর প্রথমবারের মতো একে অপরের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর পর ইরান ও ইসরাইলকে অবিলম্বে ‘গুলি চালানো’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধ থামাতে ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর রোববার রাতে ইরান ইসরাইলে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর জবাবে ইসরাইল ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। এতে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ইসরাইলের পাল্টা হামলার মাধ্যমে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সংযম প্রদর্শনের বিষয়ে মিত্র ট্রাম্পের আহ্বান অগ্রাহ্য করেছেন বলেই মনে হচ্ছে। দুই নেতার সম্পর্ক ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তেহরান থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লিখেছেন, ‘ইসরাইল ও ইরানকে অবিলম্বে ‘গুলি চালানো’ বন্ধ করতে হবে। — প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।’কয়েক মিনিট পর আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, শান্তির লক্ষ্যে ‘চূড়ান্ত আলোচনা’ এগিয়ে চলছে, যদি না ‘অজ্ঞতা বা বোকামি’ এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ইসরাইলি হামলার পর তেহরান এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।লেবাননের রাজধানীতে হামলা হলে ইসরাইলে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি আগে থেকেই দিয়ে আসছিল ইরান।নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যুদ্ধাবস্থার কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়ায় জ্বালানি ও পণ্যের বৈশ্বিক সংকটের আশঙ্কাও বাড়ছে।কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ‘প্রভাবিত’ হতে পারেমধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সম্পৃক্ততায় সংঘাতের অবসান ঘটানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যখন সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, ঠিক তখনই এ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটল।তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেন, ‘এই চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা প্রভাবিত হওয়াটা পুরোপুরি স্বাভাবিক।’তবে তিনি বলেন, ‘সব পরিস্থিতিতেই কূটনৈতিক আলোচনা স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে।’তিনি বক্তব্য দেওয়ার সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবন কেঁপে ওঠে একটি বড় বিস্ফোরণে। পরে আরও কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা সম্ভবত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ছিল বলে এএফপির এক প্রতিবেদক জানান।ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের আকাশে একটি ‘শত্রু ড্রোন’ ভূপাতিত করেছে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির কাছে একটি ‘বিশেষ চিঠি’ পৌঁছে দিতে তেহরান সফর করেন। পরে তিনি পাকিস্তানে ফিরে গেছেন বলে পাকিস্তানের একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে।তেহরান বলেছে, যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হলে লেবাননের সংঘাতও বন্ধ করতে হবে। সেখানে ইসরাইল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।‘বিপজ্জনক খেলা’এ পর্যন্ত ইসরাইল বা ইরান কোনো দেশেই হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করেছে। ইসরাইলি এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, রবিবার রাত থেকে ইরান প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরে এএফপির সাংবাদিকরা একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়েছে।ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের নেভাতিম ও তেল নফ বিমানঘাঁটি এবং একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের একটি অনুরূপ স্থাপনায় হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এসব আঘাত হানা হয়েছে।বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, ‘ইসরাইল একটি বিপজ্জনক খেলা শুরু করেছে, যার বিস্তার পুরো অঞ্চলের জ্বালানিসংশ্লিষ্ট সব লক্ষ্যবস্তু পর্যন্ত পৌঁছাবে।’তাসনিম বার্তা সংস্থাকে একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ‘জায়নবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এবং অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থে হামলার জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে।’ইয়েমেন থেকেও হামলাইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সোমবার ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। এপ্রিলের শুরু থেকে এটিই তাদের প্রথম হামলা। একই সঙ্গে তারা লোহিত সাগরে ইসরাইলি জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এ অঞ্চলের আর কোনো উত্তেজনা প্রয়োজন নেই।’এদিকে তেহরানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব কার হাতে রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা মুজতবা খামেনি মার্চে তাঁর বাবা আলি খামেনির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর এখনো জনসমক্ষে আসেননি।সোমবার তেহরানে অবশ্য যুদ্ধাবস্থার তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় ক্যাফেগুলোতে মানুষের ভিড় ছিল, আর মোটরসাইকেলগুলো দ্রুতগতিতে দুপুরের যানজটের ভেতর দিয়ে চলাচল করছিল বলে এএফপির এক সংবাদদাতা জানিয়েছেন।তবে সাধারণ কর্মদিবসের তুলনায় সড়কে যানবাহন কিছুটা কম ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, অনেকে বাড়িতেই অবস্থান করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ সারিও দেখা গেছে।রোববার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই।তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত আমিই নিই। সব সিদ্ধান্তই আমি নিই। সে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না শেয়ার আন্তর্জাতিকবিষয়: