বেনাপোলে নিহত বন্দর শ্রমিক শাহজাহানের জানাযা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: 7:56 PM , April 8, 2026

বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় নিহত হ্যান্ডলিং শ্রমিক শাহজাহান আলীর জানাযার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেনাপোল বলফিল্ড ময়দানে অনুষ্ঠিত এই জানাযায় বন্দরে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদসদস্যবৃন্দ, পুলিশের থানা কর্মকর্তা/কনস্টেবল সহ বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

​​জানাযায় উপস্থিত হয়ে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মানজারুল মান্না, বেনাপোল বন্দর পরিচালক মো. শামীম হোসেন, শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিয়াজ মখদুম। এছাড়াও শার্শা ও বেনাপোল বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, শ্রমিকদল এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ শত শত শ্রমিক এই জানাযায় অংশ নেন।

​জানাযা পূর্ব বক্তব্যে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিক নেতারা বেনাপোল বন্দরের চিকিৎসা ব্যবস্থার চরম দৈন্যদশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এর মধ্যে ​মফিজুর রহমান সজন (সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী): তিনি বলেন, “বেনাপোল বন্দর দেশের সর্বোচ্চ রাজস্ব দিলেও এখানে শ্রমিকদের জন্য কোনো হাসপাতাল নেই। ক্রেন ও ফর্কলিফটের অভাবে ঝুঁকি বাড়ছে। মোংলা বা চট্টগ্রামে হাসপাতাল থাকলে এখানে কেন থাকবে না? দ্রুত হাসপাতাল না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

​আবু তাহের ভারত (সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী): তিনি শাহজাহান আলীর মৃত্যুকে হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে বলেন, শ্রমিকরা দিনরাত হাড়ভাঙ্গা খাটুনি দিলেও তাদের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

​মো. নুরুজ্জামান লিটন (সাধারণ সম্পাদক, শার্শা উপজেলা বিএনপি): তিনি অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য ৪০ কিলোমিটার দূরে যশোর নিয়ে যেতে হয়। তিনি বন্দর চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে নিজস্ব অর্থায়নে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের দাবি জানান।

​​বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫ এর সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলী বলেন, শাহজাহানের অকাল মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে শ্রমিকরা এখানে কতটা অনিরাপদ। তিনি উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে অসহায় পরিবারটির পাশে আর্থিক ও মানসিকভাবে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।

​​বক্তব্যের শেষে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মানজারুল মান্না জানান, বর্তমানে বন্দরে কেবল প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে যা যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, “একটি আধুনিক হাসপাতালের জন্য আমরা ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক (World Bank) ও জাইকা (JICA)-এর কাছে আবেদন করেছি। অবকাঠামো ও জনবল সংকট কাটিয়ে বন্দরের গুরুত্ব বিবেচনায় আমরা দ্রুত উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

​মরহুম শাহজাহানের ভাই বিল্লু তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। জানাযা শেষে শোকাবহ পরিবেশে মরহুমের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

Loading